হকারী করে কিনেছেন আড়াই লাখ টাকার বই এখন স্বপ্ন দেখেন পাঠাগারের

ঝিনাইদহ প্রতিনিধ
চোখ মুখে অভাব অনাটনের ছায়া। হতদরিদ্র মানুষটি শেষ কবে নিজের গায়ের পোশাক কিনেছেন তাও বলতে পারেন না। জীবিকার অন্বেষনে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন হকারী। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন বাসের মধ্যে কখনো তিলে খাজা, কখনো ঝুরি ভাজা, কখনো হাতপাখা, রোমাল, আবার কখনো কলা কিংবা অন্যান্য ফলমূল ফেরি করে বিক্রি করে থাকেন। প্রাইমারি পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও অভাব অনাটনের কারণে আর পড়তে পারেননি। কিন্তু অনেক বই পুস্তক পড়ে নিজেকে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছেন ফেরিওয়ালা নামে পরিচিত মিরাজুল হক।
নিজে দু’বেলা দু’মুঠো খেতে না পারলেও অর্থ অভাবে শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়া মানুষ গুলোকে বই পড়ার মাধ্যমে মৌলিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান মিরাজুল হক। হকারী করে তিনি প্রায় আড়াই লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন ৪ শতাধিক বিভিন্ন প্রকারের বই। তিনি মনে করেন, পাঠাগার থাকলে এলাকার গৌরব উজ্জ্বল হয়। ইতিহাস, ঐতিহ্য,সাংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে ও জানাতে ভুমিকা পালন করবে। এমন উপলব্ধি থেকে তিনি নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার। কিছুদিন নিজ ব্যয়ে পাঠাগারটি চালানোর পর এখন অর্থ জায়গা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে পাঠাগারটি চালাতে পারছেন না। পাঠাগারের অভাবে ৪ শতাধিক বই বাড়িতেই বাক্সবন্ধী করে রেখেছেন। অনুযোগের সুরে তিনি বলেন, অনেক কষ্টের পরও বঙ্গবন্ধুর নামে স্থাপিত পাঠাগারটি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আলোর মুখ দেখছে না।। তিনি চান পাঠাগারটি আলোর মুখ দেখুক। সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ জ্ঞান অন্বেষনে পাঠাগারে এসে মিলন মেলার বন্ধনে আবদ্ধ থাকুক।
শুধু তাই নয় মৃতুর পর তিনি মরনোত্তর দেহ ও চক্ষু দান করতে চান। সেজন্য তিনি রোটারীও করে রেখেছেন। কোন মেডিক্যাল কলেজ তার দেহটি নিতে চাইলে তিনি দিতে আগ্রহী বলেও জানান। মৃত্যুর পর তার দেহটি যাতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহার করা হয় সেজন্য তিনি চিকিৎসাদের প্রতি আহবান জানান।
ফেরিওয়ালা মিরাজুর হক ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের কলেজপাড়ার মৃত ইব্রাহীম মোল্লার ছেলে। স্ত্রী জুলেখা বেগম, দুই ছেলে আর দুই মেয়েকে নিয়ে তার পরিবার। দুই মেয়ে শারমিন সুলতানা মিনা ও পারভিন সুলতানা মুক্তার বিয়ে হয়ে গেছে। দুই ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও আলমগীর মোল্লা। বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা সাবজেক্টে মাস্টার্স শেষ করে বিসিএস পরীক্ষা দিচ্ছেন। আর ছোট ছেলে আলমগীর মোল্লাহ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে বিশ^ ধর্ম ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সাবজেক্টের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রিড়া চক্রের প্রিয়ামিনের লীগের নিয়মিত ফুটবল খেলোয়াড়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *