ভোটে জালিয়াতি পাহারায় গঠন হচ্ছে ‘ট্রাম্প বাহিনী’

মহাকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতির আশঙ্কা আগেই প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তাই ভোটকেন্দ্র, আগাম ভোটের স্থান এবং ব্যালট জমা দেয়ার বাক্সের উপর নজর রাখতে সেচ্ছাসেবীদের মাঠে নামাচ্ছে রিপাবলিকানরা।

পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, উইসকনসিনের মতো ভোটের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ‘ব্যাটেল গ্রাউন্ড’ অঙ্গরাজ্যগুলোতে রিপাবলিকান দলের এই পাহারাদাররা ভোট প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হচ্ছে কিনা তা খুঁজে বের করবে। বিশেষ করে ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে, যে ভোট নিয়ে ট্রাম্প শঙ্কিত। আর করোনাভাইরাসের এ সময়ে ডাকযোগে ভোট পদ্ধতিরই আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বেশি।

ভোট পাহারার এই মিশনে জড়িত ২০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন। তবে একাজে এখন পর্যন্ত কতজন স্বেচ্ছাসেবী পাওয়া গেছে সেই সংখ্যা তারা জানাতে রাজি হননি। রিপাবলিকান প্রচারশিবির বছরের শুরুর দিকে বলেছিল, দেশজুড়ে ভোট পাহারায় ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করাই তাদের লক্ষ্য।

কর্মকর্তারা বলছেন, ভোট পাহারার এই অভিযানে স্বেচ্ছাসেবীরা ভোট প্রক্রিয়া কোথাও অনিয়ম হতে দেখলে তার ছবি ও ভিডিও তুলে রাখবে। পরে নির্বাচনী ফল নিয়ে যদি কোনও বিরোধ দেখা দেয় এবং আইনের আশ্রয় নিতে হয় তখন প্রয়োজনে সেগুলো প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

এরই মধ্যে স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তারা সন্দেহজনক ঘটনার ছবি এবং ভিডিও পাঠিয়েছেন। সেগুলোর একটি গত মাসে ফিলাডেলফিয়ায় একটি আগাম ভোট কেন্দ্রের। যেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি ট্রাম্পের এক নির্বাচনী প্রচার পর্যবেক্ষককে।

এর ব্যাখ্যায় নগর কর্তৃপক্ষ বলেছে, পর্যবেক্ষকদের নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হবে। কিন্তু আগাম ভোটের স্থানে তাদের যাওয়ার অনুমতি নেই।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ভিড় এড়াতে এবার অর্ধেকের বেশি ভোটার ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন।

ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আবেদনে বিশেষ করে ‘ব্যাটল গ্রাউন্ড’ অঙ্গরাজ্যেগুলোতে এগিয়ে আছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকরা। এর অর্থ, ৩ নভেম্বর ভোটের দিনের আগেই এগিয়ে থাকবেন জো বাইডেন।

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানরা ঐতিহাসিকভাবেই ডাকযোগে ভোটের উপর অনেকটা নির্ভর করে। এবার সেখানে তাদের প্রায় ১৭ লাখ সমর্থক ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর আবেদন করেছেন। আর ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকদের আবেদনের সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ।

পেনসিলভানিয়াতেও ১৫ লাখের বেশি ডেমোক্র্যাটিক সমর্থক ডাকযোগে ভোট দিতে ব্যালট পাঠানোর আবেদন করেছেন। রিপাবলিকান সমর্থকদের তুলনায় যে সংখ্যা তিন গুণের কাছাকাছি।

তাই রিপাবলিকানরা ডাকযোগে ভোটের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকী, তারা ব্যালট বাক্সগুলোর উপর ক্যামেরা লাগানোর পরিকল্পনাও করেছে। যাতে কেউ একাধিকবার ভোট দেয় কিনা তা নজরদারি করা যায়।

কোনও কোনও অঙ্গরাজ্যে ভোটার নিজে না এসে তার প্রতিনিধিকে দিয়ে ব্যাটল পেপার নির্ধারিত বাক্সে ফেলতে পারবেন। তবে, কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এটি করা যাবে না। যেমন: পেনসিলভানিয়া। সেখানে ভোটারকে নিজে উপস্থিত হতে হবে।

পেনসিলভানিয়ার বাক্স কাউন্টিতে রিপাবলিকান দলের প্রধান প্যাট ডিওন বলেন, ‘‘দেশজুড়ে ভোটের উপর নজর রাখার জন্য ‍অনেক মানুষ থাকবে, অনেক ক্যামেরা থাকবে এবং অনেক আইনজীবী থাকবে। ভোট নিয়ে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা হতে চলেছে।”

এদিকে ডোমোক্র্যাটিক পার্টি এবং ভোটাধিকার সুরক্ষা কর্মীরা বলছেন, ট্রাম্প ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নয় বরং ভোটারদের উপর চাপ প্রয়োগের পাঁয়তারা করছেন।

‘‘এটা আমেরিকার ভোটারদের ভয় দেখানোর পাঁয়তারা। যাতে তারা ভাবতে বাধ্য হয় যে, যদি তারা ভোট দিতে যায় তবে বিপদে পড়বে।”

ডেমোক্র্যাটরা বলছে, ট্রাম্পের দল আসলে ডাকযোগে ভোটের বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। যাতে হেরে গেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তারা বিষয়টিকে কংগ্রেস বা আদালত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *