দেখে আসুন পদ্মা রিসোর্টের সৌন্দর্য

শেখ মোহাম্মদ রতন :

বিশাল বিস্তৃত চর প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য নিয়ে গড়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা রিসোর্ট। রাজধানী থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলার সামনে নদীর পাড়ে দাঁড়ালে দেখতে পাবেন মনোমুগ্ধকর এই পর্যটন কেন্দ্রটি।

নদীর পাড়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা অথবা স্পিডবোট থাকে। এগুলো আপনাকে পৌঁছে দেবে পদ্মা রিসোর্টে। রিসোর্টে যাওয়ার আগে অবশ্য বুকিং করে নেওয়া ভালো।

পদ্মা রিসোর্টের কর্মীরা নিয়ে যাবে আপনাকে বুকিং রুমে। রুমে ঢুকেই নিচতলায় দেখতে পাবেন সোফা ও টেবিল সজ্জিত লিভিং রুম। দেড় তলায় অত্যাধুনিক ফিটিংসসহ (কমোড, বেসিন, লুকিং গ্লাস, টেলিফোন, শাওয়ার প্রভৃতি) দিয়ে তৈরি বাথরুম। দ্বিতীয় তলায় উঠে দেখবেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দুটি সুসজ্জিত সিঙ্গেল বেড। রিসোর্টটির চারদিকে পদ্মা নদী প্রবাহিত হওয়ায় সার্বক্ষণিক মৃদুমন্দ ঠান্ডা বাতাস বিরাজ করে।

রুমে উঠেই হাত-মুখ ধুয়ে খাওয়ার কথা মনে হতে পারে। চিন্তা নেই, পদ্মা রিসোর্টে রয়েছে সুসজ্জিত রেস্টুরেন্ট, যা ২০ থেকে ২৫টি টেবিল-চেয়ার দিয়ে সাজানো। এখানে দুই শতাধিক মানুষের লাঞ্চ বা ডিনারসহ যেকোনো পার্টি আয়োজনের সুযোগ রয়েছে।

রিসোর্টের ফুড মেন্যু দেখে তিন থেকে চারজনের জন্য একটি টেবিল বুক করতে পারেন। জনপ্রতি লাঞ্চ বা ডিনারের দাম পড়বে ৩০০ টাকা। রাতযাপন করতে গেলে একটি রুমের ভাড়া পড়বে তিন হাজার টাকা।

এখান থেকেই শুরু আপনার ভ্রমণ ও আনন্দ-উল্লাস। আপনি ইচ্ছে করলে রিসোর্টের এই বালুচরে করতে পারেন পিকনিক, ইচ্ছে করলে নিজেরা রান্না করতে পারেন। ছেলে-মেয়েরা মিলে খেলতে পারেন ভলিবল, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, কাবাডি প্রভৃতি। ভয় নেই, পড়ে গেলে মোটেই ব্যথা পাবেন না, কারণ চরজুড়ে শুধু পদ্মার বালু আর বালু।

আপনি ইচ্ছে করলেই শান্ত পদ্মা নদীতে গোসল করতে পারেন। ধরতে পারেন ছিপ দিয়ে মাছ। একটু দূরে যেতে চাইলে দেখতে পাবেন চরাঞ্চলের গ্রাম্যজীবন। পড়ন্ত বিকালে বালুচরে ইজি চেয়ার বা দোলনা চেয়ারে বসে দেখতে পারেন সূর্যাস্ত বা ভোরের সূর্যোদয়।

রাতে করতে পারেন ক্যাম্প ফায়ার ও বারবিকিউ। ইচ্ছে করলে চড়তে পারেন ঘোড়ার পিঠে, এয়ারবোটে ঘুরতে পারেন পদ্মার আশেপাশে। এসব রাইড বা আনন্দের ক্ষেত্রে রিসোর্টের নিজস্ব চার্জ দিয়ে আপনি উপভোগ করতে পারেন নিরবচ্ছিন্ন আনন্দ।

এ রিসোর্টে রয়েছে ১৬টি ডুপ্লেক্স কটেজ। প্রতিটিতে আছে একটি বড় বেডরুম, দুটি সিঙ্গেল বেডরুম ও একটি ড্রইংরুম। আছে দুটি ব্যালকনি ও একটি বাথরুম।

শীতের সময় কটেজের চারপাশ রংবেরঙের ফুলে ভরে ওঠে আর বর্ষার পানিতে টইটম্বুর। রিসোর্টের উঠোনে ইজি চেয়ারে বসে চাঁদনি রাতের মুগ্ধতা উপভোগ করতে পারেন। দিনে দেশি পালতোলা ডিঙি নৌকায় পদ্মায় বেড়াতে পারেন।

রিসোর্ট রেস্টুরেন্টে পাবেন পদ্মার টাটকা ইলিশ ভাজা। খাবারের মেন্যুতে শাকসবজি, গরু, মুরগি আর হাঁসের মাংসও পাবেন। মৌসুমি ফলও মিলবে এখানে।

পদ্মা রিসোর্টে যেভাবে যাবেন

রাজধানীর গুলিস্তান থেকে বাসে করে যেতে হবে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে। সেখান হতে মাওয়া ফেরিঘাট। মাওয়া ফেরিঘাট থেকে রিসোর্টের নিজস্ব স্পিডবোটে করে সরাসরি পদ্মা রিসোর্টে যাওয়া যাবে। লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ফেরিঘাট থেকে রিসোর্টে যাওয়ার জন্য নিজস্ব স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারেও যেতে পারবেন।

একদিনের রিসোর্টের কটেজ ভাড়া সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। আর ২৪ ঘণ্টার জন্য সকাল থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত ভাড়া নেবে তিন থেকে ৪ হাজার টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *