‘প্রতিটি নির্বাচনী আসনে “স্কুল অব ফিউচার” প্রতিষ্ঠা করা হবে’

মহাকাল প্রতিবেদক :

তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, খুদে গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্কুল অব ফিউচার প্রকল্পের অধীনে ‘ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি ল্যাব’ গঠন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জুম অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে তৃতীয় বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আরো রোবটিকস ল্যাব এবং স্কুল পর্যায়ের ল্যাবে ‘রোবট কর্নার’স্থাপন করা হবে বলেও জানান।

পলক বলেন, কোভিড ১৯ মহামারীকালে স্বল্প ব্যয়ে, দ্রুততম সময়ে সব কার্য সম্পাদনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি হচ্ছে। বিশেষ করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে রোবটিকস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স, বিগডেটা এবং এনালিটিক্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, ব্লক চেইন প্রযুক্তিতে প্রয়োজন আমাদের দক্ষ মানব সম্পদ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় আমাদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ আমাদের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর রয়েছে। তাদের মধ্যে লুকিয়ে আছে অমিত সম্ভাবনা। স্কুল প্রোগ্রামিং রোবটিকস যেসব কম্পিটিশান আমরা করেছি সেখানে শিশু ও কিশোরদের মেধা বিশ্বের বুকে মর্যাদা বয়ে নিয়ে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আমারা আগামীতে ৩০০টি নির্বাচনী আসন ভিত্তিক স্কুলে স্কুল অব ফিউচার প্রতিষ্ঠিত করা হবে। যেখানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ডিজরাপ্টেড টেকনোলজি বিষয়ে গবেষণার জন্য রোবটিকসের একটি ল্যাবের মতো থাকবে যেখাবে অগমেন্টেড রিয়েলিটি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে কলমে শিখতে পারবে। এর ফলে ১০ থেকে ১৫ বছর পরে তারা যখন কর্মজীবনে প্রবেশ করবে তখন তারা এর থেকে উপকৃত হবেন।

অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.মো.আখতারুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিসির প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল কবির।

রোবট অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক লাফিফা জামালের সঞ্চালনায় অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শামীম আহমেদ দেওয়ান বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন অলিম্পিয়াড বাস্তবায়ন সহযোগী বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব।

এছাড়াও প্রতিমন্ত্রী মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত “বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২০” উপলক্ষে নিরাপদ শিশু নিরাপদ ইন্টারনেট শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের ইন্টারনেটে নিরাপদ রাখতে হলে মূলত যে চারটি পূর্ব শর্ত নিশ্চিত করতে হয় সেগুলো হচ্ছে

প্রথমত, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি। দ্বিতীয়ত, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান তৃতীয়ত, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি ও চতুর্থত, আইনের কঠোর প্রয়োগ।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *