বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিক্সা

মহাকাল প্রতিবেদক :

২০১৮ সালের ফ্রেব্রুয়ারিতে প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক বা অনুরূপ যান চলাচল বন্ধ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সরকারের এই নির্দেশনা তোয়াক্কা না করেই খোঁদ রাজধানীর প্রধান সড়কে বেপরোয়া গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিক্সা।

করোনা মহামারির আগে ব্যাটারিচালিত রিক্সা বেশিরভাগ রাজধানীর গলিতে চলত। সম্প্রতি করোনার কারণে গলিতে যাত্রী কম থাকায় প্রধান সড়কে এখন আগের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন এই বাহনে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে কথা হয় চালক এজাজের সঙ্গে। তিনি জানান, আগে গলিতে চালাতেন। এখন গলিতে যাত্রী কম থাকায় প্রধান সড়কেও চালাচ্ছেন। খিলগাঁও এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন সার্জেন্ট কামরুজ্জামান।

তিনি জানান, রাস্তায় যেন ব্যাটারিচালিত রিক্সা চলতে না পারে সেজন্য আমরা নজর রাখছি। এরই অংশ হিসেবে প্রতিদিন অনেক রিক্সা আটক করা হচ্ছে।

জানা যায়, রাজধানীতে কত সংখ্যক ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা রয়েছে তার পরিসংখ্যান যানা নেই দুই সিটি কর্পোরেশনের কাছে। কার ইন্ধনে চলছে এসব অবৈধ যান, তারও নেই সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য। রাজধানীতে চলাচলে নিষিদ্ধ ব্যাটারি চালিত অটো-রিক্সাগুলো যেন এখন মৃত্যুর ফাঁদ। মহানগরীর প্রধান সড়কগুলোতে নিয়ন্ত্রনহীনভাবে চলছে এসব যান। প্যাডেল রিক্সায় মোটর ও ব্যাটারি লাগিয়ে অটোরিক্সা চলাচল করছে। অনেক চালকের নেই কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা। অদক্ষ চালক অনেক সময় রিক্সা নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অধিকাংশ অটোরিক্সা চলাচ্ছে শিশু-কিশোর এবং অন্য পেশা থেকে আসা শ্রমিকরা। এসব চালকদের বেপরোয়া ও বিশৃঙ্খলা অটোরিক্সা চালনার কারণে প্রতিনিয়তই ঘটেছে দুর্ঘটনা। এতে দুর্ঘটনার পাশাপাশি বাড়ছে যানজটও।

নাকাল নগরবাসির ভোগান্তি কমাতে কর্তৃপক্ষের নেই কোনো নজর। পরিশ্রম না থাকায় ঝুকিপূর্ণ এমন যান চালাতে উৎসাহিত চালকেরা।

পথচারীরা বলেন, ব্যালেন্স থাকে না। অনেক দ্রুত চলে। এরা অভিজ্ঞ নয়, বেপরোয়াভাবে চলে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী ও পুলিশের যোগসাজশে প্রধান সড়কগুলোতে চলছে অটো রিক্সা।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিক্সা জব্দ করা হচ্ছে। তাছাড়া এসব যানে ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎ। এভাবে কয়েক লাখ ব্যাটারি চার্জ দেয়া হচ্ছে গ্যারেজে। এতে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর লাভবান হচ্ছে অসাধু অটো-রিক্সা মালিকরা। অনুমোদন না থাকলেও এসব অটো রিক্সার গদির নিচে রয়েছে মাসভিত্তিক স্টিকার। যার কল্যাণেই ট্রাফিকের নাকের ডগায় অবাধে চলাফেরা করতে পারে এসব অবৈধ যান।

দ্রুত পর্যবেক্ষণ করে অটো রিকশা পুরোপুরি বন্ধে আশারবাণী শুনালেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, দ্রুত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নেবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। শহরে মোটরযান রিক্সার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *