বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে আর বিয়ে করেননি তসলিমা


মহাকাল ডেস্ক :

জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী শমী কায়সার আবারও বিয়ে করেছেন। এটি তার তৃতীয় বিয়ে। বরের নাম রেজা আমিন। যিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

শমী কায়সারের এই বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

এবার এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন শমী কায়সারের বিয়ে নিয়ে তিনি কিছু মন্তব্য করেছেন তসলিমা নাসরিন।। পাশাপাশি বলেছেন নিজের বিয়ে নিয়েও।

পাঠকদের জন্য তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক থেকে স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

আমার মাথায় যখন বুদ্ধি শুদ্ধি বলতে কিছু ছিল না, তখন বিয়ে করেছিলাম। চাপে পড়ে এবং উপায় না দেখে মনে করেছিলাম বিয়েটা বুঝি করতেই হবে। ঘর সংসার না করলেও বিয়ে জাতীয় কিছু একটা করেছিলাম বলে তখন বিশ্বাস করেছিলাম। অবশ্য আইনের চোখে ওগুলো হয়তো বিয়েই ছিল না।

আমি অবাক হই যখন দেখি বয়স হওয়া, অভিজ্ঞতা হওয়া, মাথায় বুদ্ধি শুদ্ধি প্রচুর, উপার্জন প্রচুর, নিজের পায়ে দাঁড়ানো স্বাবলম্বী মেয়েরা এই কুৎসিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বিয়ে করে! আজ দেখলাম শমী কায়সার ভীষণ সেজেগুজে তার তৃতীয় বিয়েটি করছে। কী গ্যারান্টি যে এই পুরুষটির সঙ্গে দীর্ঘদিন সে বাস করতে পারবে! কিছু ন্যাড়া হয়তো বারবার বেলতলায় যেতে পছন্দ করে।

শমীর যত খুশি তত বিয়ে করার স্বাধীনতা আছে। এ তার জীবন। এই জীবনকে তার পছন্দ- মতো যাপন সে করবে। কেউ বাধা দেওয়ার নেই। শমী সুখে শান্তিতে থাকুক। বাংলাদেশের মতো নারীবিদ্বেষী সমাজে স্বাধীন এবং সচেতন কোনো মেয়ে এমন কোনো পুরুষ কি পেতে পারে যে-পুরুষ নারীর সমানাধিকারে একশভাগ বিশ্বাস করে? আমার সংশয় হয়। শিক্ষিত, এমন কী উচ্চশিক্ষিত মেয়েদেরও নিজের স্বাধীনতা এবং অধিকার বিসর্জন দিয়ে বিয়ে টিকিয়ে রাখতে হয়।

বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে আমি বিয়ে টিয়ে করি না। আমার সংসার আমার একার সংসার। একার সংসারের মতো চমৎকার আর কিছু নেই। বিশেষ করে স্বনির্ভর এবং সফিস্টিকেটেড মেয়েদের সংসার। যত দিন পুরুষেরা নারীবিদ্বেষী, যত দিন চারদিকে কুৎসিত পুরুষতন্ত্রের জয়জয়কার, যত দিন তারা প্রভুর ভূমিকায়, তত দিন তাদের গলায় মালা পরানোর কোনো অর্থ হয় না। জানি কেউ কেউ বলবে সব পুরুষ মন্দ নয়।

অবশ্যই নয়, মন্দ-নয়-পুরুষেরা স্ত্রীদের দেখভাল করে, স্ত্রীদের ভাত কাপড় দেয়, সম্ভব হলে গয়নাও গড়িয়ে দেয়। মন্দ-নয়-পুরুষেরাও কিন্তু অবাধ্য স্ত্রীদের সহ্য করে না। সুতরাং অবাধ্য হলে চলবে না। আমি আবার অবাধ্য মেয়েদের খুব ভালোবাসি।

উল্লেখ্য: ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র প্রেমে পড়েন এবং গোপনে বিয়ে করেন। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের সাথে তার বিয়ে এবং ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ হয়। তিনি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তার সম্পাদক মিনার মাহমুদকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯২ সালে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়। তসলিমার কোন সন্তানাদি নেই। বর্তমানে নিজের দেশ ছেড়ে নির্বাসিত জীবন-যাপন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *