রিফাত হত্যা : অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির ১১ জনকে কারাদণ্ড

বরগুনা প্রতিনিধি :
বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামিকে ৬ জনের ১০ বছর, ৪ জনের পাঁচ বছর, ১ জনের ৩ বছর আর ৩ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর বুধবার আসামিদের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বরগুনা শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান রায়ের দিন আজ মঙ্গলবার ধার্য করেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর রিফাত হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় দেয়া হয়। ১০ আসামির মধ্যে নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

এদিকে আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার সমাগম বাড়ে। সবার অপেক্ষা কখন হবে বহুল আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির রায়।

সকাল ৯টার দিকে বরগুনা জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছে এ মামলায় কারাগারে থাকা ৬ আসামিকে। আর জামিনে থাকা ৮ আসামি আদালতে আসে আগেই।

রিফাত হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হচ্ছেন- মো. রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজী (১৭), মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার (১৫), মো. আবু আবদুল্লাহ ওরফে রায়হান (১৬), মো. ওলিউল্লাহ ওরফে অলি (১৬), জয় চন্দ্র সরকার ওরফে চন্দন (১৭), মো. নাইম (১৭), মো. তানভীর হোসেন (১৭), মো. নাজমুল হাসান (১৪), মো. রাকিবুল হাসান নিয়ামত (১৫), মো. সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ (১৭), মারুফ মল্লিক (১৭), প্রিন্স মোল্লা (১৫), রাতুল শিকদার জয় (১৬) ও মো. আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ (১৬)। অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের মোট ৮ জন জামিনে ও ৬ জন কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে রয়েছেন।

রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ জানিয়েছেন, তার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান। আগের রায়ে প্রাপ্ত বয়স্ক ৬ জনের ফাঁসির রায় হয়েছে। তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদেরও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী করেছেন।

রিফাতের মা ডেইজি বেগম জানিয়েছেন, তার একমাত্র ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের মৃত্যুদণ্ড হলে তিনি খুশি হবেন।

গেল ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নিসহ ৬ প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনার কলেজ রোড এলাকায় দিনের বেলা কয়েকজন যুবক রিফাত শরীফের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। রিফাত শরীফের সঙ্গে সে সময় তার স্ত্রী মিন্নিও ছিলেন। রিফাত হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ছয় দিন পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির। এদের মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। একইসঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *