মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন


মহাকাল প্রতিবেদক :

সরকার আন্তঃমন্ত্রণালয় আইনগত বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করেছে। অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি, আইনমন্ত্রী ও একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে সদস্য করে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর গঠিত এই মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করা হলো।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু হেনা সালেহ মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে অর্থমন্ত্রীর পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে (সমন্বয় ও সংস্কার) কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অথবা যুগ্ম সচিবকে (সমন্বয়)।

এছাড়াও কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যে সকল মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার বিরোধ নিস্পত্তি করা প্রয়োজন সে সকল মন্ত্রণালয়ের সচিব বা তার প্রতিনিধি যিনি পদমর্যদার দিক থেকে যুগ্ম সচিবের নিচে নয়। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব বা তার প্রতিনিধি যিনি একইভাবে পদমর্যদার দিক থেকে যুগ্ম সচিবের নিচে নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি যিনি পদমর্যদার দিক থেকে মহাপরিচালকের নিচে নয়।

২০১৫ সালে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় আইনগত বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে সহায়তাকারী কর্মকর্তা হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু পুনর্গঠিত কমিটিতে কোনও সহায়তাকারী কর্মকর্তা রাখা হয়নি।

পুনর্গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় আইনগত বিরোধ নিস্পত্তি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, কমিটি একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরস্পর বিরোধী অবস্থানের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা না করে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আন্তঃমন্ত্রণালয় আইনগত বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত কমিটিতে আপিল করতে পারবে। আন্তঃমন্ত্রণালয় আইনগত বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রয়োজন মনে করলে সদস্য কো-অপ্ট এবং বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ করতে পারবে। কমিটি প্রয়োজন অনুসারে সভা করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার ইউনিট কমিটিকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সময় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজেদের মধ্যে মামলার উদ্ভব হওয়ার কারণে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ সরকারি অর্থের অপচয় হয়। এই ধরনের বিরোধ নিস্পত্তি এবং নিজেদের মধ্যে মামলা পরিহার করার জন্য সরকার আন্তঃমন্ত্রণালয় আইনগত বিরোধ নিস্পত্তি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *