বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর


মহাকাল রিপোর্ট :

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি নিরসন, আর্থিক সাশ্রয়, নারী ভর্তিচ্ছুসহ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে গিয়ে আবাসন সমস্যাসহ বহুবিধ কারণে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। রবিবার (১ নভেম্বর) চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে আসতে এ আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এই ভার্চুয়াল আলোচনায় উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহসহ কমিশনের অন্যান্য সদস্য যুক্ত ছিলেন।

চার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সোবহান এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সমন্বিত/গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারি, তাহলে তা হবে মুজিববর্ষ এবং আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় উপহার।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়েরের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে নেওয়ার চেষ্টা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তাদের ঐকমত্যও জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিও এ বিষয়ে তার অভিপ্রায় স্পষ্ট করে ব্যক্ত করেছেন। এ বছর বিশেষভাবে বিশাল সংখ্যক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর একই সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য গণপরিবহনে ব্যাপক যাতায়াতের ফলে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।ফলে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করার বিষয়টি আরও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সভায় ‘৭৩-এর আদেশ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তিনটির উপাচার্য এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও আচার্যের অভিপ্রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমস্যা নিরসনে এবং বিশেষ করে করোনা সংকটকে বিবেচনায় নিয়ে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ এবং এর স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখার বিষয় নিশ্চিত করতে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি অবলম্বনে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে আলোচনা করে আবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *