শিক্ষা ব্যয় বাড়ছে কানাডায়


ক্যাম্পাস ডেস্ক :

করোনাভাইরাস সংকটের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থী আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কানাডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি বাজেট সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষাঙ্গনভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘টাইমস হাইয়ার এডুকেশন’ এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কঠিন সময় পার করার চিত্র। প্রতিবেদনটি বলছে, করোনাভাইরাসের ফলে দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থী আসার ওপর বিধিনিষেধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে কনকর্ডিয়া ও ম্যাকগিলের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

করোনাভাইরাসের ফলে আয়ের চাইতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ফলে, শিক্ষা ব্যয় বাড়ছে কানাডার শিক্ষার্থীদের। করোনাভাইরাসের ফলে আয়ের চাইতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ব্রিটন বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে ব্যয় কমাতে, কর্মী কমানো থেকে শুরু করে বেতনও কমানো হচ্ছে। করোনাভাইরাস আঘাত হানার আগে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৪৭০০ বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতেন। এ বছর এই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যোগদান করতে না পারায় প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এই ক্ষতির পরিমাণ বিদেশি শিক্ষার্থীদের এক বছরে প্রদানকৃত টিউশন ফির দ্বিগুণ।

কানাডিয়ান ‘হাইয়ার এডুকশন স্ট্র্যাটেজি এসোসিয়েটস’ এর এক পরিসংখ্যান বলছে,এককভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দিয়েই কানাডার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেটের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে।

শুধু এই ব্রিটন বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, ক্ষতির অঙ্ক গুণছে বিদেশি শিক্ষার্থী নির্ভর কানাডার বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। বহু আগে কানাডার সরকার ৮০ ভাগ উচ্চ শিক্ষাব্যয় বহন করতো। তবে বর্তমানে তা ৫০ ভাগেরও নিচে নেমে এসেছে। কানাডার নীতিনির্ধারকেরা চাইছেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেরাই তাদের আর্থিক সংকুলান করুক।

ব্রিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই পরিস্থিতি সেইন্ট মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই প্রতিষ্ঠানের তিন ভাগের এক ভাগ শিক্ষার্থীই বিদেশী। বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ব্রায়েন দে চেস্টেলিয়ান ‘টাইমস হাইয়ার এডুকেশন’-কে জানিয়েছেন, বিদেশী সহপাঠীরা তাদের সাথে যোগ দিতে না পারায় তারা শিক্ষাব্যয় বাড়ার ঝুঁকিতে আছেন। কেননা, তারা দেখতে পাচ্ছেন অভ্যন্তরীন শিক্ষা বাজেট দিন দিন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

‘কানাডা কলেজ অ্যান্ড ইন্সটিটিউটস’-এর প্রেসিডেন্ট ডেনিস এমিয়ট এটিকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেছেন, ‘বেসরকারিভাবে শিক্ষা ব্যয় মেটানোর উপর সরকারের অতি নির্ভরতা এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই সংকট সাময়িক, তবে নির্ভরতা কমালে সামগ্রিকভাবে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোই লাভবান হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *