ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গায়ে আগুন দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা


যশোর প্রতিনিধি :

‘তুই আমাকে কতটুকু ভালোবাসিস তার প্রমাণ দিতে পারবি? তাহলি নিজের গায় কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরায় দে তো কী রকম পারিস?’ স্বামী প্রদীপের এমন চ্যালেঞ্জের পর ভালোবাসার প্রমাণ দিতে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ পুতুল রাণী। ভালোবাসার প্রমাণ দিতে পুতুল গায়ে আগুন ধরালেও সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেননি ভালোবেসে বিয়ে করা স্বামী প্রদীপ। ভালোবাসার এই আগুনে পুড়েই গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় পুতুল রাণীর।

প্রদীপের বিরুদ্ধে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ তোলায় পুলিশ তাকে আটক দেখিয়েছে। প্রদীপ পুলিশের প্রহরায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুতুলের কাকা সঞ্চয় কুমার সাংবাদিকদের কাছে এমন তথ্যই তুলে ধরে বলেন, মৃত্যুর আগে পুতুল কথাগুলো তাকে বলে গেছেন। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করে বলেন, ‘তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া, মারামারি হতো। গত রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। তারপর প্রদীপের ভালোবাসার প্রমাণ দিতে পুতুল এ ঘটনা ঘটায়। অথচ গায়ে আগুন ধরানোর পর প্রদীপ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি। আমি এর বিচার চাই।’ এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া দাসপাড়ায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় আগুনে দগ্ধ হন পুতুল রাণী। তার স্বামী প্রদীপও (২০) দগ্ধ হয়েছেন। প্রথমে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। দগ্ধ পুতুল রাণীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। তবে স্বজনেরা তাকে নিয়ে যান খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আহম্মেদ তারেক শামস চৌধুরী জানান, রাত ৩টার দিকে দগ্ধ দম্পতিকে হাসপাতালে আনা হয়। পুতুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। এছাড়া আহত প্রদীপের দুই হাত, চোয়াল ও মাথার চুল পুড়ে গেছে। তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রদীপ জানান, পারিবারিক বিষয় নিয়ে পুতুলের সঙ্গে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে পুতুল ঘরের বাইরে যেতে চাইলে তিনি বাধা দেন এবং দরজা আটকে শুয়ে পড়েন। পুতুল ক্ষিপ্ত হয়ে পাশের ঘরে গিয়ে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। তিনি আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এতে তার দুই হাত পুড়ে যায়। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঝিকরগাছা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রদীপকে আটক দেখিয়ে পুলিশের পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *