‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সমস্যার নেপথ্যে পুঁজিবাজারের মন্দা’


নিজস্ব প্রতিবেদক :

মিউচ্যুয়াল ফান্ড সেক্টরের কাঠামোগত বা আইনগত কোনো সমস্যা নেই। আসল সমস্যা পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদী মন্দা। যে কারণে মিউচ্যুয়াল ফান্ড সেক্টর ভালো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। তাছাড়া অনেকের নেতিবাচক মন্তব্যের কারণেও মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে।

‘পুঁজিবাজার ও দেশের অর্থনীতিতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের গুরুত্ব’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন, অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) এর সভাপতি ড. হাসান ইমাম।

‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষে শনিবার এএএমসিএমএফ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাফিজ আল তারিক।

অনুষ্ঠানে ডা. হাসান ইমাম বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইমেজ সংকট আছে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। এই সেক্টর নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রায় নীতিনির্ধারক ও ক্যাপিটাল মার্কেট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মন্তব্য দেখি। বেশিরভাগ মন্তব্যই নেতিবাচক। কোনোটার পেছনে যুক্তি আছে, কোনোটা ভিত্তিহীন। এই নেতিবাচক মন্তব্য মিউচ্যুয়াল ফান্ড সেক্টর সর্ম্পকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিরূপ ধারণা তৈরি করেছে। যা ক্যাপিটাল মার্কেটের জন্য মঙ্গলজনক নয়।

ডা. হাসান ইমাম আরও বলেন, সম্প্রতি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে কাঠামোগত সমস্যা আছে বলে একজন মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কাঠামো হাস্যকর। অথচ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কাঠামোতে কোনো সমস্যা নেই। বাংলাদেশ ও ভারত, আমেরিকা এবং ইউরোপের মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কাঠামোতে কোনো পার্থক্য নেই। বরং ভারত ও আমেরিকা থেকে আমাদের ট্রাস্টি রুলস অনেক কঠিন।

এএএমসিএমএফ সভাপতি বলেন, এই ফান্ডের ইউনিট দর সম্পদ বিবেচনায় নেয়া উচিত। কিন্তু আমাদের বাজারে আরেকটি দর নির্ধারণ হয়। যাতে ১০ টাকার সম্পদের একটি ইউনিট ৪ টাকায়ও লেনদেন হয়। অথচ ওই ইউনিটের সম্পদ ১০ টাকাই রয়েছে। তারপরেও দরপতনের কারণে অনেকের ধারণা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ধ্বংস হয়ে গেছে।

ডা. হাসান ইমাম বলেন, শেয়ারের মতো ইউনিটে বিনিয়োগেও ঝুঁকি আছে। এখন কেউ যদি ঝুঁকিমুক্ত মনে করে বিনিয়োগের মাধ্যমে লোকসানে পড়েন, তখন মনে করেন এর জন্য অন্য কেউ দায়ী। মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে লভ্যাংশ নিয়েও ভুল ধারণা আছে বলে জানান তিনি। এই ফান্ড মূলত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। কাজেই তার লভ্যাংশ সক্ষমতা আসে পুঁজিবাজার থেকে। এই বাজার ভালো না করলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জন্য লভ্যাংশ দেয়া কঠিন। এটাই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইমেজ সংকটের প্রধান কারণ।

মার্কেট যদি ভালো হয় অবশ্যই মিউচ্যুয়াল ফান্ড ভালো রিটার্ন দেবে বলে জানান হাসান ইমাম। তিনি বলেন, জুন মাসে আমাদের ফান্ডগুলোর ইউনিট প্রতি সম্পদ ১০ টাকার নিচে ৭ টাকায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু এখন সবগুলো ১১ টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে এবং কয়েক মাসেই ৪% থেকে ৫% লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা ফেরত পেয়েছে। বাজার ভালো থাকলে মিউচ্যুয়াল ফান্ড ডিভিডেন্ডও ভালো দিতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *