আদালতে কী হতে পারে ট্রাম্প-বাইডেনের পরিণতি ?

মহাকাল ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গতকাল সর্বশেষ ফল অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাইডেন ২৫৩ টি এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২১৪ টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং কয়েকটি রাজ্যে ভোট গণনা বন্ধে তার প্রচারণা শিবির মামলাও করেছে।

তাই আশংকা, শেষ পর্যন্ত বিজয় আদালতে নির্ধারণ হবে কিনা। যদিও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের বাইরেই বিজয়ী প্রার্থী কে তা জানা যাবে। কিন্তু নির্বাচনের আগে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের নতুন বিচারপতি নিয়োগ এবং এক বিচারপতির মন্তব্য বিজয় নির্ধারন নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। যে দু:স্বপ্নের পরিস্থিতির আশংকা অনেকে করছিলেন, সেটিই এখন বাস্তবের দিকে এগুচ্ছে।

আইনি চ্যালেঞ্জ যেভাবে হবে

সংবিধান অনুযায়ী যে কোনো ব্যালটকে দুই প্রার্থীই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন। যেহেতু ভোট গ্রহণ ও নির্বাচন প্রশাসনের দায়িত্ব রাজ্যগুলোর কর্তৃপক্ষের অধীন তাই প্রাথমিকভাবে ব্যালট নিয়ে অভিযোগ মোকাবেলার দায়িত্ব থাকবে রাজ্য প্রশাসনের হাতে। কোনো পক্ষ ব্যালটের ফলাফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলে তারা ভোট পুনঃগণনার আবেদন জানাতে পারবেন নির্বাচন প্রশাসনের কাছে বা তাকে আইনি চ্যালেঞ্জও জানাতে পারবেন রাজ্যের আদালতে।

রাজ্যের সেক্রেটারি অফ স্টেট ফলাফল অনুমোদন করে বা ফলাফল সার্টিফাই করে স্বাক্ষর দেবার পরই সেই ফলাফল চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। ব্যালট নিয়ে সংশয় বা প্রশ্ন থাকলে রাজ্য কর্তৃপক্ষকে ফল অনুমোদন করার আগে তা জানাতে হবে। রাজ্য স্তরে ফল সার্টিফাই করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া আছে, সেটা রাজ্য ভেদে আলাদা। রাজ্যের আদালত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য মামলা সুপ্রিম কোর্টে পাঠাতে পারেন আবার ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের কাছে মামলা নিয়ে যাওয়ারও বিধান আছে। সর্বোচ্চ আইনি আদালত হওয়ায় এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের রায়ই চূড়ান্ত।

আদালতের বাইরেই ফলাফল নির্ধারন

পেনসিলভেনিয়ায় দেরিতে আসা পোস্টাল ব্যালটের গণনা বন্ধ করতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের সমর্থকরা মামলা করেছেন। ভোট গণনা বন্ধে আরো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানরা বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির নির্বাচন আইন বিশেষজ্ঞ নেড ফলি বলেন, ২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল গোরের বিরুদ্ধে জর্জ ডব্লিউ বুশ চূড়ান্ত জয় পান। তবে এই মুহূর্তে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় না যে সুপ্রিম কোর্টকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষই আইনি লড়াইয়ের জন্য আইনজীবীদের প্রস্তুত রেখেছেন।

ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনা এলিস ভোট গণনাকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমর্থনে বলেন, আমাদের যদি আইনি চ্যালেঞ্জ পার হতে হয়, সেটা ব্যতিক্রম কিছু নয়। এলিস বলেন, তিনি নিশ্চিত করতে চান যে নির্বাচনের ফল চুরি হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট এর আগে রিপাবলিকানদের আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত তিন জন বিচারপতি নির্বাচনের দিনের পর আবার মামলা নেওয়ার পথ উন্মুক্ত রেখেছেন।

আদালত যদি সে মামলা গ্রহণ করে এবং রিপাবলিকানদের পক্ষেও রায় দেন, তবুও পেনসিলভেনিয়ায় চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হবে ভোটের গণনাতেই। কারণ মামলায় কেবল ৩ নভেম্বরের পর পাওয়া পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০০০ সালে গোরের আইনজীবী ডেভিড বোইস বলেন, মিশিগান ও উইসকনসিনে বাইডেন জিতলে পেনসিলভেনিয়ার ফলাফল অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় হতাশাজনক!

সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক ব্লুমবার্গ মিডিয়া জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয়বারের মতো জয়ের পথ সুগম হতে পারে। ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে ট্রাম্প মনোনীত রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে সুপ্রিম কোর্টে একটি রায় হয়। ডেমোক্র্যাটরা উইসকনসিনে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের মেয়াদ আরো ছয়দিন বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতে ৫-৩ ভোটে সেই আবেদন নাকচ হয়ে যায়। বিস্ময়কর হলো রায়ের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। আবার পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনের তিনদিন পরও ব্যালট গ্রহণ করা যাবে। এর বিরুদ্ধে আপিল করেছেন রিপাবলিকানরা।

সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে নয়জন বিচারপতি। এর মধ্যে ছয়জনই রক্ষণশীল এবং রিপাবলিকানপন্থি। তিনজনকেই নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সবচেয়ে আতংকের বিষয়, সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প মনোনীত বিচারপতি ব্রেট কাভানাফের মতামত। বিচারপতি কাভানাফই বলেছিলেন, নির্বাচনের দিনের পর ডাকযোগে পাঠানো ভোটে কারচুপি বা এ নিয়ে প্রতারণা করা হতে পারে।

তিনি মন্তব্য করেছিলেন, কারচুপির ভোট নির্বাচনে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। কারণ এটা নির্বাচনের ফলাফলে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। কারণ নির্বাচনের পর ভোট আসলে সেটাতে কারচুপির সম্ভাবনা এবং ফলাফল প্রভাবিত করতে পারে।

ট্রাম্প মনোনীত বিচারপতি কাভানাফ, ব্যারেট এবং নেইল গরসাচের ভূমিকাই নির্বাচন পরবর্তীতে সংকট সৃষ্টি করতে পারে। কাভানাফ, রবার্টস এবং ব্যারেট ২০০০ সালে জর্জ ডাব্লিউ বুশের আইনজীবী ছিলেন। উইসকনসিন, পেনসিলভেনিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা এবং মিশিগান সবগুলোতেই রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত আইনসভা। তবে গভর্ণর ডেমোক্র্যাট পার্টির। এর ফলে দ্বন্দ্বপূর্ণ নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজে দুই দল থেকেই আলাদা আলাদা ইলেকটর পাঠানো হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটপন্থি বিচারপতি অ্যালেন কাগান কাভানাফের মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া দুই ডেমোক্র্যাটপন্থি বিচারপতি স্টিফেন ব্রেয়ার এবং সোনিয়া সতোমেয়রও বলেছেন, বৈধ ভোট গণনা না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *