রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আলতাফের ইন্তেকাল


রাবি প্রতিনিধি :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলতাফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা ৩০ মিনিটে নিজ বাস ভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৫ বছর। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বাদ জোহর রাবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মরহুমের নামাজে জানাযা শেষে তাঁকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাঁদলাইয়ে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

অধ্যাপক মো. আলতাফ হোসেন ১৯৪৬ সালে বর্তমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের চাঁদলাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএস এবং ১৯৭৬ সালে ভারতের অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য থেকে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন এবং ১৯৭৬ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

তার বিশেষায়িত বিষয় ছিলো মৎস্যবিজ্ঞান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি কয়েক বছর ফিশারীজ বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। তিনি প্রায় ২৫টি পিএইচডি গবেষণাসহ উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক এমফিল ও মাস্টার্স গবেষণা তত্ত্বাবধান করেন। এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবেষণাপত্র ও পুস্তক দেশ-বিদেশে প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি ২৭ আগস্ট ১৯৯৪ থেকে ৭ অক্টোবর ১৯৯৬ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং ৫ জুন ২০০৫ থেকে ১৫ মে ২০০৮ পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্ত্রী এবং এক পুত্র ও দুই কন্যা রেখে গেছেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মৃত্যু সংবাদ পেয়ে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া সকালে মরহুমের বাসায় যান এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও উপাচার্য হিসেবে এবং নিজ অধ্যাপনার ক্ষেত্র মৎস্যবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে উপাচার্য ও উপাচার্যদ্বয় বলেন, অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের মৃত্যুতে দেশ তার এক অন্যতম মেধাবী সন্তান ও কৃতি শিক্ষককে হারালো। মৃত্যু অমোঘ ও অবশ্যম্ভাবী হলেও এই প-িত ব্যক্তির মৃত্যু আমাদের সবার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলেও উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *