শিক্ষকের নিয়োগ বাংলায়, নিবন্ধন ব্যবসায় শিক্ষায়!

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :

প্রায় দশ বছর আগে বাংলা বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মোস্তফা কামাল। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সাময়িক এক সনদে তার নামের বিপরীতে বাংলা লেখাও রয়েছে। কিন্তু সনদের রোল নম্বর অনলাইনে যাচাই করতে গেলে আসে ভিন্ন তথ্য। বাংলার বদলে পাওয়া যায় ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের নিবন্ধন। এমন ঘটনা ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।

উপজেলার আঠারবাড়ি এমসি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগ পান গোলাম মোস্তফা। তৎকালীন পরিচালনা কমিটি নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে। কিন্তু সম্প্রতি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এনটিআরসিএর সনদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষকের নিয়োগ ও এনটিআরসিএ সনদের কিছু কাগজ ঘেঁটে দেখা গেছে, মোস্তফা কামাল ২০০৬ সালে এনটিআরসিএ থেকে বাংলা বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন মর্মে তাকে সাময়িক প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়। দ্বিতীয় নিবন্ধন পরীক্ষায় মোস্তফা কামালের রোল নম্বর ছিল ১১০৯০৪২৮। অনলাইনে ওই রোল নম্বরটি যাচাই করলে দেখা

যায়, ব্যবসায় শিক্ষা বিষয় উল্লেখ রয়েছে, বাংলা নয়। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেও অনেকে অবগত। শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন, এনটিআরসিএর প্রথম ও দ্বিতীয় নিবন্ধন সনদে কিছু ত্রুটি হয়েছে। তার সনদেও ত্রুটি ছিল। ২০১৮ সালে এনটিআরসিএর সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সনদটি ঠিক করিয়েছেন। তিনি বাংলাতেই নিবন্ধন করেছেন। তিনি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ সনদগুলো যাচাই শুরু করেছে। যাচাই শেষে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা ব্যবস্থা নেবেন।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, নিবন্ধন সনদে জালিয়াতি হয়ে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *