নোয়াখালীতে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আ.লীগ কর্মী নিহত


নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর সদর উপজেলার করমূল্যা বাজারে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আব্দুল হক (হকসাব মাঝি) (৫২) মারা গেছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে ঢাকার হেল্থ কেয়ার হাসপাতালের আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আবদুল হক উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের করমূল্যা গ্রামের আমিন উল্যার ছেলে। এওজবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুস জাহের জানান, আবদুল হক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের করমুল্যা বাজারে পূর্ব শক্রতার জের ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান ও করমূল্যা বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল ডাক্তারের গ্রুপের সাথে সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত হন আব্দুল হক। ওই সংঘর্ষে আবদুল হকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে আবদুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আবদুল হকের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হেল্থ কেয়ার হাসপাতালের আইসিইউ’তে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মান্নান এবং করমূল্যা বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কালাদরাপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল ডাক্তারের সাথে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র বিরোধ চলে আসছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে বাবুল ডাক্তারের গ্রুপের আনোয়ার, আলামিন ও রিয়াজের নেতৃত্বে সঙ্গবদ্ধ দল হঠাৎ ইউপি সদস্য আবদুল মান্নানের কার্যালয়ে হামলা চালায়। এসময় আবদুল মান্নানের ফুফাতো ভাই আব্দুল হক (হকসাব মাঝি) বাঁধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাকে মাথায় আঘাত করে গুরুত্বর আহত করে। পরে আবদুল মান্নান গ্রুপের লোকজন জড়ো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় হামলাকারীরা কয়েকটি দোকানে ভাংচুর চালায়।

সংঘর্ষে অন্যান্য আহতদের মধ্যে স্থানীয় আমিন উল্যার ছেলে মো. সিরাজ মাঝি (৫৫), আলী আহম্মদের ছেলে মো. লিটন (৩০), সাইদুল হকের ছেলে কামাল উদ্দিন (৩২), মজিবুল হকের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), গনু মিয়ার ছেলে আবদুস শহীদ (৪২), মোখলেছুর রহমানের ছেলে আবদুল হাসিম (৫২), আবুল মান্নানের ছেলে কামরুল ইসলাম কচি (২৮), ওবায়দুল্ল্যার ছেলে আবদুর রহমান (৫০), নুর আলমের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৫), আব্দুল কাদের ছেলে সালা উদ্দিন (১৯), আব্দুল বেচুর ছেলে সিরাজ (৪৫) কে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কমমূল্যা বাজারসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে বাবুল ডাক্তারের লোকজন। এনিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি তাদেরকে একাধিকবার সতর্ক করে আসছেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে বাবুল ডাক্তারের গ্রুপের শিবির ক্যাডার আলামিন ও যুবদল নেতা আনোয়ার, রিয়াজের নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জনের সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসীরা হঠাৎ তার অফিসে অর্তকিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের হামলায় আবদুল হকসহ তার ১৩জন লোক গুরুত্বর আহত হয় বলে দাবি করেন তিনি। আবদুল মান্নান বলেন, পরিকল্পিতভাবে বাবুল ডাক্তার বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরের সন্ত্রাসী দিয়ে আবদুল হককে খুন করেছে।

করমূল্যা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার বাবুল জানান, তাদের বাড়ি লোকজন বাজারে আসলে মান্নান মেম্বারের লোকজনের সাথে কটু কথা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। এনিয়ে মান্নান মেম্বারের লোকজন তাদের লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে তাদের ৭জন লোককে আহত করে। তিনি জানান, মান্নান মেম্বারের সাথে তাদের কোন পূর্ব বিরোধ নাই। বাজারে চাঁদাবাজি নিয়ে সোহেল গ্রুপের সাথে মেম্বার গ্রুপের বিরোধ চলছে।

সুধারাম মডেল থানার ওসি নবীর হোসেন সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আবদুল হকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *