ফরিদপুর পৌর মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ১৭ জনের তালিকা কেন্দ্রে

ফরিদপুর প্রতিনিধি

সভার মাধ্যমে পাওয়া ১৭ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ
ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ১৮ জন। তাদের মধ্যে বর্তমান মেয়রের নাম বাদ দিয়ে ১৭ জনের তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ই-মেইলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এই তালিকা পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন।

দীর্ঘ ৯ বছর পর ফরিদপুর পৌরসভার (সদর) ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১০ ডিসেম্বর। মেয়র পদের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হলেও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৯টি মহিলা কাউন্সিলর ও ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্দলীয়ভাবে অংশ নেবেন প্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভা হয়। জেলা সভাপতি আইনজীবী সুবল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে ওই সভায় ফরিদপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র শেখ মাহাতাব আলী মেথুসহ নৌকা প্রতীকপ্রত্যাশী ১৮ জনই উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৫ নভেম্বর। ১৭ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ নভেম্বর। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আবেদন করতে বলেছে। সে লক্ষ্যেই শনিবার প্রার্থী হতে চাওয়া নেতাদের তালিকা পাঠানো হয়েছে জেলা থেকে।

তালিকায় শেখ মাহাতাব আলী মেথুর নাম বাদ দেয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান মেয়র মেথু আগে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি করতেন। তিনি জাতীয় পার্টি করার সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করেছেন। সম্প্রতি শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১৩ জন নেতাকে বহিষ্কারের সুপারিশ জেলা কমিটিকে পাঠানো হয়। সেটি অনুমোদনের জন্য জেলা কমিটি কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছে। তবে কেন্দ্র থেকে সেই সুপারিশ এখন পর্যন্ত অনুমোদিত হয়ে আসেনি। শহর কমিটির সহসভাপতি ছিলেন মেথু। ১৩ জনের বহিষ্কারের তালিকায় তার নাম থাকায় তাকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সুপারিশ করা হয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে মেথু দাবি করেন, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে তার সখ্য ছিল কিন্তু তিনি ওই দুটি দলের কোনো পদে কখনোই ছিলেন না। তিনি বলেন, ১৩ জনের তালিকা করে বহিষ্কারের সুপারিশের যে কথা বলা হচ্ছে, তা জেলা আওয়ামী লীগে আলোচনা ছাড়াই করা হয়েছে। বহিষ্কারের সুপারিশের পর তিন মাস পার হয়ে গেছে। ফলে ওই সুপারিশের কোনো কার্যকরিতা নেই।

মেথু বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি। দলীয় মনোনয়ন লাভে আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নেব।’

জেলা আওয়ামী লীগ যে ১৭ জনের নাম মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করে পাঠিয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার মঞ্জুর আলী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খলিফা কামালউদ্দিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সদস্য সাইফুল আহাদ সেলিম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম নীরু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক শাহ আলম মুকুল ও সাবেক সদস্য মনিরুল হাসান মিঠু। জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঝর্ণা হাসান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক অমিতাভ বোস, দপ্তর সম্পাদক আইনজীবী অনিমেষ রায়, প্রচার সম্পাদক মনির হোসেন, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শাহ ইশতিয়াক আরিফ এবং সদস্য জিয়াউল হাসান মিঠু। এই তালিকায় আরো আছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত আলী জাহিদ, রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের (রুকসু) সাবেক জিএস রাশেদুজ্জামান রেশাদ ও সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক জামালউদ্দিন কানু।

দেশের অন্যতম প্রাচীন ফরিদপুর পৌরসভা স্থাপিত হয় ১৮৬৯ সালে। বর্ধিত এলাকার সমন্বয়ে ৬৬ দশমিক ৫৪ বর্গকিলোমিটারের এই পৌরসভায় বর্তমানে ২৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। ২০১৯ সালের হালনাগাদ তালিকা অনুসারে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৩ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৭১ হাজার ৭৮৬ জন এবং নারী ৭৬ হাজার ৫৭১ জন।

সর্বশেষ ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফরিদপুর পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ক শ্রেণির এই পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করার উদ্যোগে ২০১৬ সালের নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *