ছাত্রী গণধর্ষণ : এএসআই রাহেনুল রিমান্ড শেষে কারাগারে


রংপুর প্রতিনিধি :

রংপুরের হারাগাছে চাঞ্চল্যকর ছাত্রী গণধর্ষণ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আসামি মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএসআই রাহেনুল ইসলাম ওরফে রাজুকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এই আদেশ দেন। এদিকে রিমান্ডে রাহেনুল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন যা মামলার বস্তুগত তথ্যের সাথে মেলানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মো: সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, স্কুল ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার প্রধান আসামী রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলামকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে রবিবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম রবিবার দুপুরে এ আদেশ দেন।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে পিবিআই কঠোর পুলিশী পাহারায় এএসআই রায়হানুল ইসলামকে আদালতে নিয়ে আসে। এরপর তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমের আদালতে হাজির করা হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করে। পিবিআই আবারও নতুন করে রিমান্ডের আবেদন না করায় বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এছাড়া গত ৪ নভেম্বর পিবিআই আসামী এএসআই রায়হানুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচার স্নিগ্ধা রায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রবিবার রিমান্ড শেষ হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করে পিবিআই।

এ ব্যাপারে পিবিআই পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, রিমান্ডে থাকাকালে এএসআই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। তাছাড়া ভিকটিম নিজেও আদালতে তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি প্রদান করেছে। তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে পিবিআই পুলিশ অফিসে আলোচনা করে তাকে আবার রিমান্ডে নেয়া হতেপারে।

রংপুর আদালতের মেট্রোপলিটন কোর্ট ইন্সপেক্টর নাজমুল কাদের জানান, ৫ দিনের রিমান্ড শেষে কড়া পুলিশী পাহাড়ায় রবিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক ফজলে এলাহীর আদালতে হাজির করা হয়। আদালত শুনানি ও জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ৪ নভেম্বর বুধবার বিকেলে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শওকত আলী। এছাড়াও তিনদিনের রিমান্ড শেষে মামলার আসামী সুমাইয়া পারভিন মেঘলা ও সম্পাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ২৯ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তাদেরকে একই আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। ২৮ অক্টোবর এই মামলায় গ্রেফতার আবুল কালাম আজাদ এবং বাবুল হোসেন নামে দুই ধর্ষক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। ওই দিন নির্যাতিতা ছাত্রীও ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয় আদালতে। ২৭ অক্টোবর এই মামলায় মেঘলা ও সম্পাকে আদালতে তোলা হয়েছিল।

এদিকে আদালতে যখন তাকে আনা হয় তখন কোর্ট পুলিশের সাথে রাহেনুল অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেও দেখা গেছে। যা উপস্থিত পুলিশ সদস্যদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতি ফেলে দিয়েছিল।

পিবিআই এসপি এবিএম জাকির হোসেন জানিয়েছেন, রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে তোলা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা বস্তুগত তথ্য প্রমাণের সাথে ম্যাচিং করা হচ্ছে। এছাড়াও ডিএনএ পরীক্ষা করার প্রস্তুতি চলছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ডিবি পুলিশের এএসআই দুই সন্তানের জনক রাহেনুল ইসলাম ওরফে রাজু হারাগাছ থানায় কর্মরত অবস্থায় অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে ময়নাকুঠি কচুটারী এলাকার ওই ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তাকে মেঘলার ভাড়া বাড়িতে নিয়ে এসে নিজে ধর্ষণের পর সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ২৬ অক্টোবর মামলার এ ঘটনায় নির্যাতিতা ওই ছাত্রীর মা কর্তৃক মামলার পরপরই ওই ছাত্রীকে চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে নেয়া হয়। এছাড়াও এএসআই রাহেনুল কে আটক এবং সাময়িক বরখাস্ত করে হেফাজতে নেয় মেট্রোপলিটন ‍পুলিশ। চিকিৎসা শেষে নির্যাতিতা ছাত্রীকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, দুই সন্তানের জনক হলেও নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় এবং বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দিয়ে রাহেনুল আমার মেয়েকে নিজে এবং অন্যদের দিয়ে সর্বনাশ করেছে। এই অবস্থায় এই মেয়েটির ভবিষ্যৎ কি হবে। সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং জড়িত রাজুসহ অন্যদের ফাঁসি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয়, আমার মেয়েকে রাহেনুলসহ মেঘলা এবং সম্পা বগুড়ায় বিক্রি করার জন্য চেষ্টা করেছিল। সে হিসেবে কথা বার্তাও হয়েছিল বলে আমার মেয়ে আমাকে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *