প্রধান শিক্ষক জটিলতায় তিন মাস বেতন পাচ্ছেন না শিক্ষকরা

ফেনী প্রতিনিধি :

ফেনীর সোনাগাজী মোহাম্মদ ছাবের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের আদেশে প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন হয়ে গেলেন সহকারী শিক্ষক। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষক এবিএম সামছুদ্দিন বশরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হলেও দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন তাকে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে সপরিবারে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের ৪ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব গোপাল চন্দ্র দাস সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ১০ জন সহকারি শিক্ষককে সরকারিকরণ করা হলেও প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে সরকারিকরণ না থাকায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়।

আর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককের পদ নিয়ে জটিলতার কারণে করোনাকালীন সময়ে তিন মাস ধরে সরকারি বেতন ভাতা পাচ্ছেন না শিক্ষকরা। এ নিয়ে শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

গত ১৭ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এবিএম সামছুদ্দিন বশরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতা প্রদান করা হয়। তিনি চিঠি পেয়ে গত ১৯ অক্টোবর সদ্য সাবেক প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীনের অনুপস্থিতিতে শিক্ষক পর্ষদের সভার মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নিয়োগপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম সামছুদ্দিন বশর বলেন, চলতি মাসের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে তার চাকরির মেয়াদ। ৩০ নভেম্বর তার চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসের শেষ ঘন্টা বাজবে। সরকারি আদেশের চিঠি পেয়ে শিক্ষক পর্ষদের সভার মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সদ্য সাবেক প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন তাকে দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় তিনি বিপাকে রয়েছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও শিক্ষক-কর্মচারী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৫ সালে সোনাগাজী বাজারের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট সরকারিকরণ করা হয়। চলতি বছরের ৪ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি নীতিমালার যোগ্যতার ভিত্তিতে ১০ জন শিক্ষক সহকারী শিক্ষক হিসেবে এবং ৩ জন কর্মচারীর চাকরি সরকারিকরণ করা হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে মাস্টার্স পাস হতে হবে। সরকারিকরণের পূর্ব থেকে দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন বিএ পাস হওয়ায় তিনিও সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি তালিকাভুক্ত হন। সহকারী প্রধান শিক্ষক পদেও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা না থাকায় পূর্বে কর্মরত থাকা শিক্ষকদের মধ্যে কেউ সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে সরকারিকরণ হতে পারেননি। ফলে আগামীতে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসির) মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে জনবল নিয়োগ করার কথা রয়েছে। অথবা জ্যোষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।

এ ব্যাপারে জানার জন্য পূর্বে দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীনকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আলম বলেন, প্রধান শিক্ষক জটিলতায় শিক্ষকরা তিন মাস বেতন পাচ্ছেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *