ঋণ বিতরণ না করেই প্রণোদনার অর্থ দাবি, রাকাবকে শোকজ


মহাকাল ডেস্ক :

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এ প্যাকেজের অর্থ বিতরণ না করেই বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। আবার অন্য খাতে বিতরণ করা অর্থও প্রণোদনা খাতে বিতরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন খাত থেকে এ অর্থ দাবি করা হয়েছে। এভাবে প্রণোদনার বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন দাবি করাকে অনিয়ম করা হয়েছে উল্লেখ্য করে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া আগের দেওয়া প্রণোদনার ঋণগুলোকে পরীক্ষা করার জন্য এমডিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম মেনেই ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। পরে পুনঃঅর্থায়ন দাবি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষতি কাটাতে কৃষি উত্পাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। কৃষকরা এই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। আর ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করবে সেই পরিমাণ টাকা পুনঃঅর্থায়ন করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সঠিকভাবে যথাসময়ে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ব্যাংককে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয় ৩১৯ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা পরে আরো ৯৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৪১৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ব্যাংকটি ৩৩৩ কোটি টাকা বিতরণ করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এই তহবিল থেকে জুলাইয়ে ৮ কেটি ৪৩ লাখ ২৯ টাকা বিতরণ করেছে দাবি করে সমপরিমাণ অর্থ চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। ব্যাংক কর্তৃক দাখিলকৃত কাগজপত্র, সংশ্লিষ্ট শাখার ঋণ বিবরণী, মাঠ পর্যয়ে কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে বেশ কিছু অনিয়ম পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তিন ধরনের অনিয়মের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

মৌসুমভিত্তিক ফুল ও ফল চাষ, মত্স্য চাষ, পোলট্রি, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণ বিতরণ না করে ৪৬টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। ৩ লাখ ঋণ মঞ্জুর করে ২ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করে ৩ লাখ প্রণোদনা দাবি করা হয়েছে। ১০ হাজার বিতরণ করে দাবি করা হয়েছে ৮ লাখ টাকার পুনঃঅর্থায়ন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিঠিতে বলছে, কি কারণে অনিয়ম হয়েছে তা জানাতে হবে। এছাড়া আগে ছাড়কৃত ঋণ হিসেবে একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে জানাতে হবে।

এ বিষয়ে ব্যাংকের এমডি এ কে এম সাজেদুর রহমান খান বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের জন্য রাকাব কাজ করে যাচ্ছে। প্রণোদনা খাতের ঋণ অন্য খাতে দেওয়া বা বিতরণ না করে দাবি করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখানে কিছুটা ভুল-বুঝাবুঝি হয়েছে। আমরা সেটা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছি। শিগিগরই বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী রাকাব কাজ করে এবং করবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *