এলেনবাড়ীর কোয়ার্টারের ছাদে নারী হত্যা রহস্যের কিনারা হয়নি


মহাকাল ডেস্ক :

রাজধানীর তেজগাঁও এলেনবাড়ী সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার। ছোট আয়তনের পাশাপাশি দুইটি ছয়তলা ভবন। এই দুইটি ভবনে সরকারি চতুর্থ শ্রেণির (১৮ গ্রেড থেকে ২০ গ্রেড) কর্মচারীদের কোয়ার্টার অবস্থিত। ছয়তলা বিশিষ্ট দুইটি ভবনে নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরকম পরিস্থিতিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে ২ নম্বর ভবনের ছাদ থেকে বস্তাবন্দি একটি লাশ মেলে। পুলিশ এসে বস্তার মুখ খুলে দেখতে পায় অজ্ঞাত নারীর লাশ। সরকারি কোয়ার্টারের ছাদে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় শনাক্ত হলেও দীর্ঘ প্রায় দুই মাসেও খুনের রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি।

কোয়ার্টারের নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন যখন খুশি তখন। রাতে ভবন দুইটির ছাদ বখাটে আর মাদকসেবিদের আখড়ায় পরিণত হয়। কোয়ার্টারে বসবাসকারীরা দেখেও না দেখার ভান করেন। এ কারণে অনেক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী তাদের নামে বরাদ্দ করা বাসা ভাড়া বা সাবলেট দিয়েছেন।

তেজগাঁও থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, ঘটনার পর নিহতের ফিঙ্গার প্রিন্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সঙ্গে মিলিয়ে তার নাম পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তার নাম জুলেখা বেগম (৩২)। বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকায়। ঢাকায় পল্লবীর আলোকদি এলাকায় বড় বোন মালা বেগমের সঙ্গে তিনি থাকতেন। পরে জুলেখার বোন মালা বেগম তেজগাঁও থানায় উপস্থিত হয়ে লাশের ছবি দেখে তার ছোট বোন বলে শনাক্ত করেন। ঘটনার পর মালা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওসি আরো বলেন, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে ঐ নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার আগে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তর করে।

পিবিআইয়ের মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পায় যে ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার সিঁড়ি সংলগ্ন একটি বাসার প্রবেশের দরজার সামনে মেঝেতে সামান্য রক্তের দাগ পায়। কাউকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ছাপ মেঝেতে। পরে ঐ বাসার আনিস নামে এক ভাড়াটিয়া বাসিন্দাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পিবিআই আনিসকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পিবিআই বলছে, এই হত্যার সঙ্গে আনিসের সংশ্লিষ্টতা এখনো মিলেনি।

পুলিশ জানায়, ঐ কোয়ার্টারের আশেপাশে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। ঘটনার দিন কারা, কখন এবং কীভাবে ঐ কোয়ার্টারে প্রবেশ করেছিল-তা জানা যায়নি। আবার এমনও হতে পারে যে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা ঐ কোয়ার্টারে থাকেন। সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করছে মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *