‘জীবনের মতো তোর জমির স্বাদ মিটিয়ে দেব, আমার নাম ওসি রবিউল’


খুলনা প্রতিনিধি :
বাবার কেনা জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন খুলনার কয়রা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. শামস উদ্দিন বাবু সানা। শুধু তাই নয়, শারীরিকভাবে তিনি লাঞ্ছিতও হয়েছেন।

একদিকে নিজ জমি দখলমুক্ত না করতে পারা ও অন্যদিকে পুলিশের হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাবু সানা। তিনি তার পিতার ক্রয় করা জমি দখলমুক্ত ও লাঞ্ছনাকারী পুলিশের বিচার দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

শামস উদ্দিন বাবু সানা বলেন, তার প্রয়াত বাবা গাউস আলী সানা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। তিনি তার জীবদ্দশায় কয়রা উপজেলার মোট ০.৬৬ একর জমি ক্রয় করেন। যার মধ্যে বর্তমানে ০.১২ একর জমি বেদখল অবস্থায় রয়েছে। আসিয়া খাতুনের কাছ থেকে ক্রয় সূত্রে ওই জমি দখল করে আছেন একই এলাকার আব্দুল মজিদ গাজী। ২ জুলাই এ নিয়ে স্থানীয় সালিস বৈঠকে আমিন দিয়ে জমি মাপা ও স্কেচ ম্যাপ করে বিষয়টির সত্যতা মেলে। কিন্তু আব্দুল মজিদ কারো কথা শুনছেন না।

বাবু সানা আরো বলেন, এ অবস্থায় আমি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ৬ আগস্ট কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর অভিযোগ দাখিল করি। তিনি আমাদের উভয় পক্ষকে থানায় নিয়ে ৭ দিনের মধ্যে জমি মেপে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি নিজেদের জমির সীমা নির্ধারণ না করতে বলেন।

অভিযোগকারী আরো বলেন, ৫ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে আমি ব্যবসার কাজে বাইরে গেলে জানতে পারি প্রতিপক্ষরা আমার জমি ঘিরে দিচ্ছে। বাড়ি এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে প্রতিপক্ষরা কয়রা থানার ওসির নির্দেশে এ কাজ করছে বলে জানায়। আমি দুপুর দেড়টার দিকে কয়রা থানার ওসি মো. রবিউল হোসেনকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। তিনি ফোন রিসিভ করেই আমার সঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যবহার শুরু করেন।

তিনি (ওসি) আমার মৃত পিতা-মাতাকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। ওসি ফোন ধরেই বলেন, ‘এই শালা তোর… তুই ফোন দিছিস ক্যান….। তুই ফোন রাখ।’

এসময় আরো কিছু আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেন ওসি যা উল্লেখ করা যাচ্ছে না। যার ফোন রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি করেন বাবু সানা।

তিনি আরো বলেন, শুধু তাই নয়, ওসি রবিউল একই দিন ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আমার বাড়ির সামনে আসেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করে কে বলেছে যে আমি ঘেরা দিতে হুকুম দিয়েছি। আমি তখন আনোয়ারা বেগমের কথা বলি, তিনি এ কথা বলেছেন। ওসি সাহেব তখন তার ডান হাত দিয়ে আমার মুখের বাম পাশে ঘুষি মারেন। আমি মাটিতে পড়ে গেলে তিনি তার পায়ে থাকা বুটজুতো দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাথি মারেন। এতে আমি মারাত্মকভাবে আহত হই।

বাবু সানা বলেন, ওসি সাহেব আমাকে বলেন, ‘তোকে জীবনের মতো জমির স্বাদ মিটিয়ে দেব। তোকেসহ তোর ভাইদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে জেলের ভাত খাওয়াব। আমার নাম ওসি রবিউল হোসেন। আমি ভবিষ্যতে কয়রা থেকে চলে যাব, তবে তুই সারাজীবন আমার কথা মনে রাখবি।’

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বাবু সানা বলেন, আমার বাবা কেন মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন জানি না। আজ আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। পাকিস্তানি কায়দায় নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হচ্ছি। পৈত্রিক সম্পত্তি অবৈধ অর্থের জোরে বেদখল হচ্ছে। আমি আমারা বাবার জমি ফেরত ও নির্যাতনের বিচার চাই।

কয়রা থানার ওসি মো. রবিউল হোসেন বলেন, বিতর্কিত জমিতে কোনো ঘেরা নেই। অভিযোগকারী দীর্ঘদিন বিরক্ত করে আসছে। তাই একটু বকাঝকা করেছি। সে ভালো মানুষ নয়। তবে বিষয়টি যেভাবে বলা হয়েছে তা নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *