ফরিদপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির ‘ডামি’ প্রার্থীর ছড়াছড়ি

ফরিদপুর প্রতিনিধি

আসন্ন ফরিদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীসহ দলটি ও সহযোগী সংগঠনের মোট চারজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারাসহ আওয়ামী লীগ ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের একক প্রার্থী ও স্বতন্ত্র দুইজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সবমিলে মেয়র পদে মোট আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন।

তবে, বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য তিনিজন বলছেন, তারা মূলত ‘ডামি’ প্রার্থী। কোনো কারণে মূল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলে তাদের প্রার্থিতা কাজে লাগবে।

রোববার (১৫ নভেম্বর) শেষ দিনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীসহ মোট ছয়জন মেয়র মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগের দিন শনিবার (১৪ নভেম্বর) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দুইজন প্রার্থিতা দাখিল করেন।

দুপুর আড়াইটার দিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অমিতাভ বোস দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। শনিবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ফরিদপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শেখ মাহাতাব আলী মেথু। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

তবে নিজেকে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মনে করেন না মেথু। তিনি বলেন, ‘আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী। স্বতন্ত্র হচ্ছে সর্বদলীয় প্রার্থী। অর্থাৎ দল নিরপেক্ষ প্রার্থী।’

ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী হাফেজ আব্দুস সালাম ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শহরের হাড়োকান্দি হাবেলি রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা খন্দকার তৌফিক এনায়েত।

বিকেলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

তবে ধানের শীষ প্রতীক পেতে যাওয়া নায়াব ইউসুফের মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে যাওয়ার পর পরই একে একে প্রার্থী হন জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গী, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে কিবরিয়া স্বপন ও মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহমেদ তাবরিজ।

বেনজীর এর আগে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে নিজেকে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে স্বীকার করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমি বিদ্রোহী নই, বলা যায় এক্স্ট্রা প্লেয়ার কিংবা ডামি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। দলীয় মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাছাইকালে কোনো সমস্যা হলে আমি ঢাল হিসেবে কাজ করবো।’

অভিন্ন দাবি করে জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে কিবরিয়া বলেন, বর্তমান আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনের অংশ হিসেবে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কোনো কৌশলে বাদ দেয়া হলে আমাদের প্রার্থিতা তখন কাজে দেবে। আমরা তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী নই, এটি আমাদের নির্বাচনী রণকৌশল মাত্র।’

ফরিদপুরের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলাম জানান, বর্ধিত ফরিদপুর পৌরসভার ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মোট ২০৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নয়টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মোট ৫২ জন। সব মিলিয়ে ২৬৮ জন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রার্থিতা দাখিল করেছেন।

এদিকে মধুখালী পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে মোট তিনজন মনোনয়নপত্র জাম দিয়েছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি বর্তমান মেয়র খন্দকার মোরশেদ রহমান লিমন, বিএনপির প্রার্থী পৌর বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মির্জা মিলন।

মধুখালী পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন এবং সংরক্ষিত তিনটি মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে আগামী মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) । আগামী ১০ ডিসেম্বর ফরিদপুর সদর ও মধুখালী পৌরসভার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করার কথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *