‘ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার’

মহাকাল প্রতিবেদক :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাচ্ছেন। পদ্মা সেতুর মতো বড় স্থাপনার কাজ প্রায় সমাপ্ত, আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত থেকে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। ঠিক তখন ধর্মান্ধরা আমাদের দেশকে পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাচ্ছে।

শনিবার (১২ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র শিরোনামে প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আজকে অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় এক শ্রেণির ধর্ম ব্যবসায়ী আছে, যারা ইসলামের নামে ভাস্কর্য ধ্বংস করার জন্য এবং বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করার মতো এ রকম দুঃসাহসিক শব্দ উচ্চারণ করেছেন। আমি বলতে চাই, এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা নতুন নয়, খোলাফায়ে রাশেদীনের চার খলিফার মধ্যে তিন জনকে তারা হত্যা করেছিল, তারা খারিজি সম্প্রদায়ের; প্রকৃত ইসলামের অনুসারী নয়।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আজকে সংবিধান লংঘন করে আমাদের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা এগুলো করছে তারপর তারা বহাল তবিয়তে ঘুরঘুর করবে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। তাই আমরা আশা করব ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে যারাই আস্ফালন করেছে রাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। রাষ্ট্রযন্ত্র নিষ্ক্রিয় না থেকে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারীদের প্রতি সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালত কী করেছে তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। সরকার কী করছে সেটা আমাদের আগে দেখা দরকার। তাই আমাদের সংবিধান রক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু যে কারণে দেশ স্বাধীন করেছেন, স্বাধীনতার চেতনাকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রক্ষার জন্য সরকার আইন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে, যাতে মানুষ আইন নিজ হাতে তুলে না নেয়।

মোজাম্মেল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে বাঙালিকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের ভেতরে যেসব মানুষ অবরুদ্ধ ছিলেন, তাদের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র অনুপ্রেরণা দিয়েছে। মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র না থাকলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয়গুলো জনগণ এবং বিশ্ববাসী জানতে পারতো না।

মন্ত্রী বলেন, যেসব মুক্তিযোদ্ধার নাম যাচাই-বাছাই না করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, শুধুমাত্র তাদের বিষয়েই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। তাদের কাউকেই মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। আমরা গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে প্রচুর ভুল-ভ্রান্তি পেয়েছি। আমরা ভারতীয় তালিকা ও লাল মুক্তি বার্তায় নামের তালিকা সামনে রেখে এ যাচাই-বাছাই করছি। তিনি বলেন, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। যার জন্য সবার সব তথ্য সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। করোনাকালে আমরা দেখেছি, একজনের টাকা আরেকজনের পকেটে গেছে। এ ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। ২০০২ সালের পর অনেক অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সশস্ত্র যুদ্ধের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ছিল। সেই যুদ্ধে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিকেরা।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী নমিতা ঘোষ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম প্রকৌশলী রেজাউল করিম ভূঁইয়া, বইয়ের লেখক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ড. অরুপরতন চৌধুরী, লেখক ও গবেষক সৈয়দ জাহিদ হাসান, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম এবং আগামী প্রকাশনীর পরিচালক গীতি আসমা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *