অপহরণের এক মাসেও সন্ধান মেলেনি লাবণীর

বেনাপোল প্রতিনিধি : ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ০৮:৪২ |

যশোরের শার্শা উপজেলায় এক কলেজপড়ুয়া গৃহবধূকে অপহরণের এক মাস পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

উপজেলার বাগআঁচড়া সাতমাইল মাঠপাড়া গ্রামের জিয়ারুল ইসলাম ইমনের স্ত্রী সোমাইয়া ইসলাম লাবণীকে একই গ্রামের হুসাইন আহম্মেদ নামে এক বখাটে যুবক জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এক মাস আগে পালিয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ। এ ব্যাপারে শার্শা থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রায় এক মাস হতে চললেও গৃহবধূকে উদ্ধার করা যায়নি। মেয়েটির কোনো সন্ধান না পেয়ে তার পরিবার হতাশ। লাবণী শার্শার বাগআঁচড়া সাতমাইল গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে।

গৃহবধূ লাবণীর স্বামী জিয়ারুল ইসলাম ইমন বলেন, আমি প্রায় ১০ বছর তাকে বিয়ে করেছি। তাকে কোনো রকম খারাপ কোনো কাজের সাথে জড়িত দেখিনি। মাঝে মধ্যে তারই চাচা পরিচয়ের ওই হুসাইন তাকে নানাধরনের কুপ্রস্তাব দিলে সে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করত। আমার স্ত্রী যশোর এম এম কলেজের হিসাব বিজ্ঞানের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী।

লাবণীর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে অষ্টম শ্রেণি পড়া অবস্থায় বিয়ে দিয়েছি। জামাই ইমন এমএ পাস। তারা আমার বাড়িতে থাকত। আমার একটি মাত্র ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ায় আর কোনো ছেলে-মেয়ে না থাকায় তাদের বাড়িতেই রেখেছি। পাশের বাড়ির লাবণীর চাচা পরিচয়ের হুসাইন মাঝে মধ্যে তার মেয়েকে নানা কুপ্রস্তাব দিত। এর আগে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল হুসাইন তার মেয়েকে জোর করে নিয়ে পালিয়ে যায়। আমার মেয়ে কৌশলে পরদিন সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এরপর গত ১৮ নভেম্বর মেয়েকে আবারো ওই হুসাইন নিয়ে পালিয়ে যায়। এবার অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে অবশেষে শার্শা থানায় গত ২৫ নভেম্বর অভিযোগ দায়ের করি। পুলিশ আসলেও উদ্ধার কাজে কোনো অগ্রগতি হয়নি। আমরা আশঙ্কা করছি নাশকতার মামলার আসামি মাদকসেবী হুসাইন আমাদের মেয়েকে জীবিত রেখেছে কি না, মেরে ফেলেছে। তিনি আরো বলেন, আমার মেয়েকে তুলে নেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেছে হুসাইনের মা লতিফুন্নেছা।

সরেজমিনে খোঁজ নিতে হুসাইনের বাড়ি গিয়ে তাদের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। গ্রামের লোকজন জানান, হুসাইন একজন বখাটে। সে বিএনপি-জামাতের নাশকতা মামলার একজন আসামি। এর আগে সে নাশকতার মামলায় জেল খেটেছে।

শার্শা থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি উদ্ধারের চেষ্টা করছি। তাদের বাড়িতে এর মধ্যে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে মেয়েটির মা। আমরা মেয়েটিকে উদ্ধারের ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *