প্রান্তিক পর্যায়ে বুথ খুলতে পারবে ব্রোকার হাউজ

মহাকাল প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪১|

দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে ব্রোকার হাউজগুলোকে প্রান্তিক পর্যায়ে ডিজিটাল বুথ স্থাপনের অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই ডিজিটাল বুথ স্থাপনে করণীয় বিষয়ে একটি নির্দেশনাও জারি করেছে কমিশন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জের সম্মতিক্রমে যেকোনো স্টক ব্রোকার ডিজিটাল বুথের জন্য কমিশনে আবেদন করতে পারবে। এ বুথের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ব্রোকার হাউজের প্রধান কার্যালয়ের হাতে। তৃতীয় পক্ষের কারো মাধ্যমে এ বুথ পরিচালনা করা যাবে না।

বিএসইসি বলেছে, যেকোনো সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই ডিজিটাল বুথ স্থাপন করা যাবে। এছাড়া দেশের বাইরেও এ ধরনের এলাকায় ডিজিটাল বুথ স্থাপন করা যাবে। সেক্ষেত্রে কমিশনের পাশাপাশি যথাযথ কর্তৃপক্ষেরও সম্মতি নিতে হবে।

ডিজিটাল বুথ পরিচালনার জন্য ব্রোকার হাউজগুলোর প্রয়োজনীয় কাঠামো, সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক সক্ষমতা ও জনবল থাকতে হবে বলে বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে প্রতিটি বুথ খোলার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জে ১ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। দেশের বাইরে বুথ খোলার জন্য জমা দিতে হবে ১০ লাখ টাকা। এছাড়া দেশের বাইরে বুথ খোলার ক্ষেত্রে ব্রোকারকে নন-জুডিশিয়াল ৩০০ টাকার স্টাম্পে অমীমাংসিত দাবি, বৈধ দাবি বা অপরিশোধিত দাবির ক্ষেত্রে তারা এককভাবে দায়বদ্ধ থাকবে বলে লিখিত দিতে হবে। ব্রোকার হাউজের পর্ষদ মনোনীত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা যেকোনো শীর্ষ কর্মকর্তা বা পরিচালকের স্বাক্ষর থাকতে হবে সেই স্টাম্পে।

যে ব্রোকার হাউজ বুথ চালু করতে চায়, তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট থাকতে হবে। এছাড়া প্রতিটি বুথে কাস্টমার সার্ভিসের জন্য একটি ফোন নম্বর, নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক সুবিধা, কমপক্ষে একজন অনুমোদিত প্রতিনিধি, ভার্চুয়াল ট্রেডিং মনিটর বা ডিসপ্লে টিকার ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবস্থা থাকতে হবে। আর বুথের সামনে সাইনবোর্ড থাকবে, যেখানে স্টক ব্রোকারের নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, স্থানীয় ঠিকানার বিস্তারিত তথ্য, যোগাযোগ নম্বর ও ই-মেইল অ্যাড্রেস থাকবে।

প্রতিটি বুথে অ্যাকাউন্ট খোলা ও বন্ধ, ট্রেডিং ইত্যাদি সীমাবদ্ধ হবে। যেখানে একজন গ্রাহক প্রতিদিন গ্রামীণ এলাকায় নগদে ২ লাখ টাকা এবং পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। বুথ থেকে গুজব ছাড়ানো প্রতিরোধে ব্রোকার হাউজকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আঞ্চলিক পর্যায়ে বুথের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর আগে এক বা একাধিক বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে হাউজগুলোকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *