ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে স্ত্রীর যতসব অভিযোগ

চাঁদপুর প্রতিনিধি | প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৩৯|

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন তার প্রথম স্ত্রী সোনিয়া আক্তার। সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে নিজ সন্তান, বাবা ও বোনদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন তিনি। কান্নাভেজা নয়নে পুরো সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সোনিয়া আক্তার।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে সোনিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর তাদের সংসার প্রথম দিকে ভালো চললেও মাদকাসক্ত হয়ে দিনে দিনে স্ত্রীর প্রতি নির্যাতন বাড়াতে থাকেন মাহফুজুল হক। ব্যবসা ও অন্যান্য সমস্যার কথা বলে শ্বশুর ও ভায়রার কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নেন কয়েক দফায়। কিন্তু সেসব টাকা ফেরত দেননি। সেই টাকা চাওয়া হলে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

সোনিয়া আক্তার জানান, ১০ বছর আগে মাহফুজুল হকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তিন সন্তান আছে। মাহফুজুল হক পাঁচ বছর আগে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপরই তার চারিত্রিক পরিবর্তন শুরু হয়। নেশায় জড়িয়ে পড়া এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এসবের প্রতিবাদ করলে স্ত্রী সোনিয়া আক্তারকে নির্যাতন করা হতো। কয়েক মাস আগে মেয়র মাহফুজুল হক সোনিয়াকে কোনো কিছু না জানিয়ে কুমিল্লায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনায় প্রতিবাদ করায় বিভিন্নভাবে নির্যাতন এবং ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন সোনিয়া আক্তার। এছাড়াও তিনি বর্তমানে সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।

এ প্রসঙ্গে মেয়র মাহফুজ বলেন, আমার প্রথম স্ত্রী সোনিয়া আমার সঙ্গে বিয়ের পর থেকে প্রতারণা করে আসছে। কারণ, আমি বিয়ের দেড় মাস পর জানতে পারি সে এর আগেও তার দুই বিয়ে ছিলো। এ অবস্থায় আমি তাকে মেনে নিয়ে ১০ বছর সংসার করি।

তিনি বলেন, সামনে পৌর নির্বাচন। আমি মনে করি, আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের সহায়তা নিয়ে সে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। গত ২২ নভেম্বর আমি ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আমার স্ত্রীর দ্বারা বারবার নির্যাতনের শিকার হয়ে আসার চিত্র তুলে ধরেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *