বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ


মহাকাল প্রতিবেদক | প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:২৪|

যাদের অকুতোভয় যুদ্ধের কারণে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকীতে সেইসব শ্রেষ্ঠ বীর সন্তানদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে গোটা জাতি। মুক্তিযদ্ধে শহীদদের স্মরণে বুধবার প্রথম প্রহরেই জেগে উঠে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। সর্বস্তরের মানুষের পুষ্পাঞ্জলিতে ভরে উঠছে স্মৃতিসৌধ।

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নানা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ কুয়াশা ও ঠাণ্ডাকে উপেক্ষা করে হাজির হন স্মৃতিসৌধ এলাকায়। আসেন অনেক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাও। বিজয় দিবসের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে স্মৃতিসৌধকে ঘিরে গোটা সাভার যেন পরিণত হয়েছে উৎসবের নগরীতে।

বুধবার ভোর সাড়ে ৬টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। একই সময়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শুরু হয় শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব। সাড়ে ৬টার পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে একাত্তরের মুক্তিসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সামরিক কায়দায় সালাম জানায়। শহীদদের স্মরণে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।

আগের বছরগুলো রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান বিজয় দিবসে সাভারে গিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অন্য অনেক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির মত এবারের বিজয় দিবসের কর্মসূচিও সীমিত করে আনতে হয়েছে। বিজয় দিবসের দিন জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত সামরিক কুচকাওয়াজ (প্যারেড) এবার হচ্ছে না।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষেও শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রধান বিচারপতি ও তিন বাহিনীর পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের শ্রদ্ধার ফুলে ভরে যায় স্মৃতিসৌধ এলাকা। এসময় যেন পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা একটি মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। এছাড়া স্মৃতিসৌধ এলাকা থেকে অনবরত মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দেশাত্মবোধক গান শোনা যাচ্ছে। অন্যান্য বছর লাখো মানুষের আগমনে স্মৃতিসৌধ এলাকা লোকে লোকারণ্য হলেও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে এবার সেই সংখ্যাটা তুলনামূলক কম।

স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে আসা গুলশানের মিল্কী খাতুন বলেন, ‘স্বামীর চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকা হয়। জাতীয় স্মৃতিসৌধ শুধু বইয়ে পড়েছি। কখনো আসা হয়নি। তাই ছুটি পেয়ে স্বামীর সঙ্গে ভোরেই চলে এসেছি শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। এখানে এসে অনেকটা আপ্লুত হয়ে গেছি।’ মিল্কীর মতো অনেকেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসেছেন শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। তাদের সবার চোখে মুখেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা বিনির্মাণের অবিচল আস্থার ছাপ। বিজয় দিবসের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে স্মৃতিসৌধকে ঘিরে গোটা সাভার যেন পরিণত হয়েছে উৎসবের নগরীতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *