মহামিলনে আটকে আছে দুটি মাছি!


মহাকাল ডেস্ক | প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:১৭ |

কবি শহীদ কাদরী তাঁর ‘সঙ্গতি’ কবিতায় লিখেছেন—

প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিক-ই কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না।

কী বিস্ময়কর ব্যাপার, বিজ্ঞানীরা এমন একজোড়া মাছি প্রেমিক-প্রেমিকার সন্ধান পেয়েছেন যারা চার কোটি বছর ধরে মিলিত আছে। পৃথিবীর কোনো শক্তি তাদের সেই মিলনকে থামাতে পারেনি। প্রশ্ন হলো, শরীরের সঙ্গে শরীরের মহামিলনে একসঙ্গে চার কোটি বছর কাটিয়ে দেওয়া কি সম্ভব? সম্প্রতি কিছু জীবাশ্ম বিজ্ঞানী দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জীবাশ্ম নিয়ে কাজ করছিলেন। জায়গাটি অস্ট্রেলিয়ার অটওয়ে অববাহিকায় গন্ডোয়ানা সুপারকন্টিনেন্টের দক্ষিণ অংশে।

সায়েন্স এলার্ট জার্নাল থেকে জানা যায়, জীবাশ্ম অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা হঠাত্ই অদ্ভুত একটি স্ফটিক খুঁজে পান। গবেষণাগারে স্ফটিকটি পরিষ্কার করার পর তাঁরা অবাক হয়ে যান—দেখতে পান একজোড়া মাছি একে অপরের সঙ্গে লেপটে রয়েছে। ঐ মাছি দুটি ডলিকোপোডিডে প্রজাতির—সাধারণ মাছির তুলনায় এদের পা বেশ লম্বা। মিলনরত অবস্থায় গাছ থেকে বের হওয়া আঠালো রসে চাপা পড়ে তাদের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

মেলবোর্নের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ জেফ্রি স্টিলওয়েল জানিয়েছেন, গাছ থেকে রস বেরিয়ে তা জমে স্ফটিক তৈরি হয়। প্রায় চার কোটি বছর আগে সেরকমই গাছের রসে আটকে যায় মাছি দুটি। তার ওপর আরো রস জমে স্ফটিকটি বড় আকার ধারণ করে। যার ফলে স্ফটিকের মধ্যে মাছি দুটি অবিকৃত অবস্থায় রয়ে গেছে। স্টিলওয়েল জানিয়েছেন, অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি দেখেন, মাছি দুটি একে-অপরের সঙ্গে লেপটে রয়েছে। ভালো করে দেখতে গিয়ে বোঝেন মিলনরত অবস্থায় গাছের রসে সমাধি ঘটে তাদের।

তবে জীবিত অবস্থায় মাছি দুটির মধ্যে মিলন ঘটেছিল কি না সেই ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। এমনও হতে পারে, একসঙ্গে এমনভাবে রসে চাপা পড়ে মাছি দুটি, যা দেখলে মনে হচ্ছে তারা মিলনরত ছিল। এই বিষয়টিকে বিজ্ঞানীরা ‘ফ্রোজেন বিহেভিয়ার’ বলে থাকেন।

ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের জীবাশ্মবিদ ভিক্টোরিয়া ম্যাকয়ও-র মতে, হতে পারে প্রথমে একটি মাছি গাছের রসে আটকে যায়। উত্সাহবশে সেই অবস্থায় তার সঙ্গে মিলিত হতে গিয়ে দ্বিতীয় মাছিটিরও একই অবস্থা হয়। তারপর চার কোটি বছর ধরে ওভাবেই প্রকৃতির মধ্যে জীবাশ্ম হয়ে টিকে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *