ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলা: ২৯ ডিসেম্বর চার্জ গঠন


দিনাজপুর প্রতিনিধি | প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:১১ |

দিনাজপুর ঘোড়াঘাট উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার মামলায় বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) মামলার বিচারিক কার্যক্রমের প্রথম ধার্য তারিখে আসামিদের উপস্থিতিতে চার্জ গঠনের জন্য আগামী ২৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

দিনাজপুরের আদালত পুলিশ পরিদর্শক ইসরাইল হোসেন ও দিনাজপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শাহ্ দোরখ শান (এডমিরাল) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের প্রথম ধার্য তারিখে দুপুরে আসামি রবিউল ইসলামকে দিনাজপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আসামি রবিউলের আইনজীবী শহীদুর রহমান জামিনের আবেদন করলে আদালতে বিচারক বিশ্বনাথ মণ্ডল জামিন নামঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে আগামী ২৯ ডিসেম্বর মামলার চার্জ গঠনের দিন ধার্য করেন। এরপর আসামি রবিউলকে পুনরায় জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

এর আগে মামলাটি আমলি আদালত-৭ (ঘোড়াঘাট) এ তদন্ত কার্যক্রম সমাপ্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি বিচারিক কাযক্রম ও নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক আদালত-২, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করেন।

এর আগে গত ২২ নভেম্বর এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. ইমাম জাফর আসামি রবিউলকে অভিযুক্ত করে আদালত অভিযোগপত্র পেশ করেন।

২০ সেপ্টেম্বর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের আদালতে রবিউলকে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানিতে আদালতের কাছে হামলার দায় স্বীকার করেন।

এর আগে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল জানিয়েছিলেন, এ ঘটনার একমাত্র পরিকল্পনাকারী এবং হামলাকারী তিনি নিজেই। আক্রোশ থেকেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে তিনি। তার দেয়া তথ্যমতে হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়ি, লাঠি, মই, চাবিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তার পরনের প্যান্ট, হাতের ছাপসহ মোবাইলের লোকেশন- বিষয়গুলো আলামত হিসেবে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এসব আলামত বিচারকার্যে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্দেহভাজন ও প্রযুক্তির সহায়তার রবিউল ইসলামকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মই বেয়ে ইউএনও ওয়াহিদার সরকারি বাসায় ঢুকে এবং ভেন্টিলেটর ভেঙে ইউএনওর রুমে প্রবেশ করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত শুরু করে হামলাকারীরা। একসময় ইউএনও’র চিৎকার শুনে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা পাশের রুম থেকে ছুটে এসে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে পাশের কোয়ার্টারের বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই রাতেই প্রথমে ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরদিন সকালে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর ওয়াহিদাকে ঢাকায় এনে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতেই প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় ৬ সদস্যের চিকিৎসক দল ইউএনও ওয়াহিদার মাথার জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।

একই সময়ে হামলার শিকার ওয়াহিদা খানমের মুক্তিযোদ্ধা বাবা ওমর আলী শেখকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *