গল্প-আড্ডায় বন্ধুত্ব


আশিক ইসলাম | ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৪৬ |

ব্যক্তিগত সম্পর্কের খুব কাছের প্রিয়জন হচ্ছে বন্ধু। বন্ধুত্বের মধ্যেই একাকার হয়ে থাকে যত নির্ভরতা আর বিশ্বাস। কারও কারও জীবনে এমন এক সময় আসে যখন বন্ধু ছাড়া আর কিছুই ভাবা যায় না। জীবনে বন্ধুর গুরুত্ব কত অপরিসীম তা হয়তো বলে শেষ করা যাবে না। তাই তো যুগে যুগে অনেক কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার বন্ধুত্ব নিয়ে লিখেছেন উপন্যাস, কবিতা কিংবা গান।

সবুজের সমারোহে ঘেরা ৭৫৩ একরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছে হাজারো বন্ধুত্বের এক অকৃত্রিম মেলবন্ধন। বন্ধুত্বের গল্পগুলো জমে ওঠে আড্ডায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর, শহীদ মিনার, শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা মুক্তমঞ্চ, শাবাশ বাংলাদেশ চত্বর, বুদ্ধিজীবী চত্বর, জোহা চত্বর, শেখ রাসেল চত্বর, টিএসসিসি চত্বর, হবিবুর মাঠ, চারুকলা চত্বর, স্টেশন বাজার রেললাইন, বধ্যভূমি, পশ্চিমপাড়ায় জমে ওঠে এ আড্ডা।

এক আকাশ স্বপ্ন নিয়ে ছুটে আসা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। শুরু হয় জীবনের নতুন অধ্যায়। বিভিন্ন জায়গা থেকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ছুটে আসা এ সব শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে খুব বেশি সময় লাগে না। ক্যাম্পাসে আসার পর একে অন্যের সঙ্গে পরিচয়, ওঠাবসা, আড্ডা-প্রেম আর ভালোবাসার মধ্যেই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব।

বন্ধুত্বের আড্ডা ছাত্রজীবনের একটা অংশ। আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আড্ডা একটু বেশিই হয়। ক্লাস, পরীক্ষা আর প্রেজেন্টেশনের নানা চাপের মধ্যে আড্ডা প্রশান্তি এনে দেয়। প্রতিদিনের ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে আড্ডা বা পড়ন্ত বিকালে ফুটে ওঠে দারুণ প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিনই জমে ওঠে গল্প-আড্ডা-গান। আড্ডায় আলোচনা হয় নানা বিষয়ে। নিত্য-নতুন অভিজ্ঞতা, রাজনীতি-অর্থনীতি, প্রেম-ভালোবাসা, বিরহ, ক্লাস-পরীক্ষা এমন কিছু বাদ যায় না এ আড্ডায়। আড্ডার ছলে কাউকে পচানো নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। কখনো বা আড্ডায় সুর তোলে গিটারে।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী এম কামিল আহমেদ বলেন, ‘অবাধ স্বাধীনতাময় ক্যাম্পাস লাইফের জরুরি অনুষঙ্গ আড্ডা। আড্ডাবাজি ছাড়া ক্যাম্পাসজীবন অসাড় মনে হয়। ক্ষণিকের আড্ডায় নিমিষেই মন সতেজ হয়ে ওঠে। ক্লাসের ফাঁকে টং দোকানে, পড়ন্ত দুপুরে টুকিটাকি চত্বর আর শেষ বিকালে ইবলিশের মাঠে দিলখোলা হাসি আর প্রাণখোলা আড্ডা। বড্ড মিস করি সেসব সোনালি মুহূর্ত।’

প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় গন্ডি পেরিয়ে অশ্রম্নসজল চোখে বিদায় নেয় হাজারো শিক্ষার্থী। সবাই প্রবেশ করে যার যার কর্মক্ষেত্রে। তবে বন্ধুত্বের সেই আড্ডা, সেই টুকিটাকি চত্বর, প্যারিস রোড স্মৃতির পাতায় বৃহৎ একটা অংশ নিয়ে তখনো হাতড়ে বেড়ায়। দিন শেষে তখনও মনে হয় যদি আবার ফিরে পেতাম আমাদের সেই ক্যাম্পাস লাইফ, সেই বন্ধুত্বের আড্ডা। আবার একইভাবে ক্যাম্পাসে আগমন ঘটে হাজারো নবীনদের। এভাবেই প্রতিনিয়ত নতুনভাবে আড্ডায় আড্ডায় মুখরিত হয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রান্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *