শরীয়তপুর পৌর নির্বাচন :আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন পারভেজ রহমান


শরীয়তপুর প্রতিনিধি|২০ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:২২|

পৌরসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে শরীয়তপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন লাভ করেছেন এ্যাডভোকেট পারভেজ রহমান জন (৩২)। শুক্রবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে পারভেজ রহমানের নাম শরীয়তপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। পারভেজ রহমান এর মনোনয়ন প্রাপ্তির সংবাদ মুহুর্তেই রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে শরীয়তপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

মরহুম আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র জন মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছে এমন খবরে বাধ ভাঙ্গা আনন্দে উচ্ছোসিত হয়েছেন দলীয় সকল স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। শুক্রবার রাতেই জন’র মনোনয়ন প্রাপ্তির আনন্দে শরীয়তপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল বের করে মিষ্টি বিতরন করেছেন দলীয় সমর্থকরা।

এবারের পৌরসভা নির্বাচনে শরীয়তপুর সদর পৌরসভা থেকে পৌরসভা আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগ যৌথভাবে ৫ জন প্রার্থীর নাম কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের নিকট প্রেরণ করেন। এরা হলেন বর্তমান মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর মৃধা, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এ্যাডভোকেট আলমগীর মুন্সী, শরীয়তপুর পৌরসভার ১নং প্যানেল মেয়র মোঃ বাচ্চু বেপারী এবং শরীয়তপুর জজ কোর্টের এপিপি পারভেজ রহমান জন। এছাড়াও নিজস্ব মাধ্যমে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন কোতোয়াল ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাহাড়। মনোনয়ন প্রত্যাশি সাতজন প্রার্থী থাকলেও ১৮ ডিসেম্বর রাতে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তের দিকে না তাকিয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা পারভেজ রহমান জন এর নাম নিজের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, আজ ২০ ডিসেম্বর পারভেজ রহমান জন জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন। আগামী ১৬ জানুয়ারী ২০২১ তারিখে পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহনের কথা রয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা শহরের পালং বাজার এলাকার এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান ও জিনাত রহমান দম্পতির প্রথম সন্তান পারভেজ রহমান জন। ১৯৮৮ সালের ১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন জন। তিনি ঢাকাস্থ স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন জন। তিনি বর্তমানে শরীয়তপুর জজ কোর্টের একজন সুনামধন্য তরুন আইনজীবী ও সহকারি পাবলিক প্রোসিকিউটর। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টেরও তালিকাভূক্ত একজন আইনজীবী জন।

পারভেজ রহমান জনের পরিবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি ত্যাগী ও সমৃদ্ধ পরিবার। জন’র পিতা মরহুম এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান ১৯৭৭ সালে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের প্রথম আহ্বায়ক এবং ১৯৭৯ সালে জেলা যুবলীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালীন সাংবাদিকতা পেশার সাথে জরিত ছিলেন জন’র পিতা হাবিবুর রহমান। ৮০’র দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে শরীয়তপুরে আইন ব্যবসা শুরু করেন জনের প্রয়াত পিতা এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান। তিনি দুই বার শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একাধিকবার তিনি শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে অনেক বড় ত্যাগ শিকার করে গেছেন এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান।

২০০১ সালের ৫ অক্টোবর ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দলীয় প্রার্থীর পক্ষ্যে কাজ করতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সশস্ত্র হামলা ও সহিংসতায় নিজ বাড়িতে, স্ত্রী-সন্তানদের চোখের সামনে আপন ছোট ভাই মনির হোসেন মুন্সীসহ গুলিবিদ্ধ হয়ে নির্মমভাবে নিহত হন জনের পিতা হাবিবুর রহমান। হাবিবুর রহমান তখন একাধারে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, জজ কোর্টের পিপি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জন’র বয়স তখন মাত্র ১২ বছর। জন’র মা জিনাত রহমান ২০০৩ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদিকা পদপ্রাপ্ত হন।

২০০৮ সালে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জিনাত হাবিব শরীয়তপুর সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে জেলা আওয়মী লীগের সম্মেলনে জিনাত হাবিবুর রহমানকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়। নানা রোগ ভোগের পর ২০১৮ সালের ১৯ আগষ্ট জন’র মমতাময়ী মা জিনাত হাবিব দুই পুত্র এবং এক কন্যা সন্তানকে এতিম করে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *