মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি ২৭ জুন ২০২৬ , ৭:৪৭ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ব্র্যাকের এক নারী মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে ক্ষুদ্রঋণ গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগে অভিযুক্ত আশা আক্তার ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সিডিও (সেন্টার ডেভেলপমেন্ট অফিসার) হিসেবে মাদারগঞ্জ শাখায় দায়িত্ব পালন করতেন। জানা গেছে, গত ২৪ জুন থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্রঋণ সদস্যদের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে টাকা ধার নেন। কারও কাছ থেকে ঋণের অর্ধেক অর্থ, আবার কারও কাছ থেকে উচ্চ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করেন। এভাবে শতাধিক সদস্যের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, মাদারগঞ্জ পৌর এলাকার গাবেরগ্রাম, বালিজুড়ী, জোড়খালীসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। প্রতারিত গ্রাহকদের অনেকেই শুক্রবার থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশা আক্তার পরিবারসহ বালিজুড়ী বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। কয়েকদিন আগে পদোন্নতি ও বদলির কথা জানিয়ে বাসার মালামাল সরিয়ে হঠাৎ চলে যান। এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী সাহিদা আক্তারের অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রির কথা বলে আশা আক্তার ও তাঁর মা তাঁর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন। এখন টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
এদিকে আরও বেশ কয়েকজন গ্রাহক একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন অজুহাতে নেওয়া অর্থ ফেরত না দিয়ে ওই মাঠকর্মী আত্মগোপনে চলে গেছেন।
বাড়ির মালিকও জানিয়েছেন, তড়িঘড়ি করে বাসা ছেড়ে যাওয়ার আগে এলাকার অনেক মানুষের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছিলেন আশা আক্তার।
এ বিষয়ে ব্র্যাকের মাদারগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মাজহারুল আলম বলেন, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত কর্মীর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। জেলা সমন্বয়কারী জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশীষ রায় বলেন, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।